✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৫, | ১১:২৯:০৯ |উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি পরিমাণ ফি স্থায়ী করতে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতে এই ফি আদায় আটকে যাওয়ার পর সোমবার প্রস্তাবিত বিধিমালাটি প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি চূড়ান্ত হতে পারে। বিধিমালাটি কার্যকর হলে নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য বিপুল অঙ্কের এই ফি স্থায়ী হবে। বার্তাসংস্থা রয়তার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
গত বছর প্রথমবার সাময়িকভাবে এই ফি আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের জুনে একটি ফেডারেল আদালত এই ফি অবৈধ ঘোষণা করে প্রশাসনকে তা আদায় থেকে বিরত রাখেন। বর্তমানে বোস্টনভিত্তিক একটি আপিল আদালত ওই রায়ের পর্যালোচনা করছে। একই সময়ে অন্য একটি আদালত বড় একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের করা চ্যালেঞ্জ খারিজের সিদ্ধান্তও পর্যালোচনা করছে।
ট্রাম্পের আরোপ করা সাময়িক ফি আগামী সেপ্টেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগে নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা গেলে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি স্থায়ীভাবে কার্যকর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে এইচ-১বি ভিসার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিশেষায়িত ক্ষেত্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিতে পারেন মার্কিন নিয়োগকর্তারা। প্রতিবছর সাধারণভাবে ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। এর বাইরে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য আরও ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের আগে এসব ভিসার জন্য সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে বিভিন্ন ফি দিতে হতো। ফলে নতুন প্রস্তাবিত ফি আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
তবে প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ভিসায় অবস্থানরত বিদেশিদের নতুন এইচ-১বি ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের বড় একটি অংশ এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে। একইভাবে বর্তমান ভিসার নবায়নের ক্ষেত্রেও এই ফি প্রযোজ্য হবে না।
ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, অনেক কোম্পানি এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার করে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অনেক কোম্পানির দাবি, কিছু বিশেষায়িত পদে যোগ্য মার্কিন কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। তাই শীর্ষস্থানীয় বিদেশি প্রতিভা নিয়োগের জন্য এইচ-১বি কর্মসূচি প্রয়োজন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ প্রায় ৭০টি নিয়োগকর্তা মোট ৮৫টি ভিসা আবেদনের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি পরিশোধ করেছিল।
ফি আরোপের সময় ট্রাম্প অভিবাসন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের এমন ক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করা যায়।
তবে এই ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্স, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের একটি জোট আদালতে মামলা করেছে। নতুন বিধিমালাটি চূড়ান্ত হলে এসব মামলায় সংশোধন এনে প্রস্তাবিত নিয়মকেও চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে।
মামলাকারীদের দাবি, বিদেশিদের প্রবেশ সীমিত করার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এইচ-১বি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠাকারী আইনকে অগ্রাহ্য করার সুযোগ দেয় না। একই সঙ্গে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ফি, কর বা রাজস্ব সংগ্রহের অন্য কোনো ব্যবস্থা চালু করতে পারে না বলেও তারা দাবি করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, এই ফি প্রচলিত অর্থে কোনো কর নয়। বিদেশিদের প্রবেশ সীমিত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগও সীমিত বলে দাবি করেছে প্রশাসন।
ট্রাম্পের বৃহত্তর অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রভাব এইচ-১বি কর্মসূচিতেও পড়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিয়োগকর্তারা প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-১বি ভিসার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি কম এবং ২০২৩ সালে চাওয়া প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার ভিসার অর্ধেকেরও কম।
এ ছাড়া এইচ-১বি আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে নতুন ভিসা বাছাই প্রক্রিয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে। আগস্টের শুরুতে পৃথক একটি বিধিমালায় এইচ-১বি কর্মীদের অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানো বা বিদেশে অবস্থানরত কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের আবেদনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব করা হয়।