✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৭, | ০১:১৫:৪৯ |নেপালে ভূমিকম্পের পর তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় রাসুয়া জেলা এবং এর ভাটির কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক হতাহত ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাবে এই বিপর্যয়ে অবকাঠামো খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ বিলিয়ন নেপালি রুপি বলে জানিয়েছে সরকার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালের এই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে রাসুয়াসহ নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিব্বতের দিক থেকে ভোতে কোশী নদী দিয়ে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
রাসুয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন ও ট্রেকিংকেন্দ্র স্যাব্রুবেসি ও তিমুরে বাজারও এই ঢলের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পায়নি। পানির তোড়ে সেখানকার হোটেল, রিসোর্ট ও স্থানীয় দোকানপাট ধসে নদীতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কাদাপানি দু-তিন তলা ভবনের সমান উচ্চতায় উঠে আসে। পানির সঙ্গে নেমে আসে বিশাল পাথর ও উপড়ে যাওয়া গাছের গুঁড়ি। এসবের নিচে বহু বসতবাড়ি চাপা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জিরোং পোর্ট চেকপয়েন্টে মুহূর্তের মধ্যে পাহাড় ধসে পড়ছে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছোটাছুটি করছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো এলাকা কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিব্বত-রাসুয়াগড়ি সীমান্ত এলাকার প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন একটি অস্থিতিশীল পার্বত্য শিলাখণ্ডে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভূমিধস থেকেই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসের পাশাপাশি নেপাল-তিব্বত সীমান্তে লেন্ডে নদীর পানি ফুলে ওঠে। পরে সেই পানি তিমুরে এলাকায় ভোতে কোশী নদী হয়ে ত্রিশূলী নদীতে প্রবেশ করে।
দেশটির জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রাসুয়ায় স্থানীয় বৃষ্টিপাতের কারণে এই বন্যা হয়নি। বরং উজানের পার্বত্য অঞ্চল থেকে হঠাৎ নেমে আসা বিপুল পানি ও ভূমিধসের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
নেপালের ভৌত অবকাঠামো মন্ত্রী সুনীল লামসাল বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী শুধু অবকাঠামো খাতেই প্রায় ২০০ বিলিয়ন নেপালি রুপির ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক ও সেতু। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত সচল করা এবং বিধ্বস্ত সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণে অগ্রাধিকার দেবে সরকার।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। তাই হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে পাহাড়ি এলাকায় উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা বিপুল পানির স্রোতকে সাধারণভাবে ‘পাহাড়ি ঢল’ বলা হয়। নেপালের এই বিপর্যয়ও অনেকটা তেমন। তবে এখানে ভূমিধস ও উঁচু পার্বত্য অঞ্চল থেকে নেমে আসা ঢল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।