যে কারণে চীনের প্রশংসা করল ইরান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৮, | ০১:২৬:৫৬ |

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ইরানের পাশে দাঁড়ানোয় চীনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে তেহরান। গত বুধবার দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বেইজিং ও তেহরানের মধ্যকার এই কৌশলগত অংশীদারত্বের জন্য অন্য কোনো দেশের অনুমতির প্রয়োজন নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় চীনের এই নীতিগত অবস্থানকে স্বাগত জানান তিনি। গালিবাফ লেখেন, ইরান ও চীনের মধ্যকার বিস্তৃত কৌশলগত সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক বিশ্বের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কঠোর হুমকি দেয় ওয়াশিংটন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই হুমকি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনহীন এবং আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত যেকোনো বেআইনি নিষেধাজ্ঞার চরম বিরোধী চীন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চীনের বর্তমান বাণিজ্য আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে বেইজিং স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

মূলত তেহরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নতুন করে যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে মার্কিন প্রশাসন, তার জবাবেই দুই দেশের এই শক্ত অবস্থান সামনে এলো। নতুন এই দফায় প্রায় ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। এই তালিকায় চীনের মূল ভূখণ্ড ও হংকংভিত্তিক কিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও বড় কোনো চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আপাতত এর আওতায় রাখা হয়নি। বেশ কয়েক বছর ধরে চীনা বাজারই ছিল ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় গন্তব্য, যদিও মার্কিন অবরোধের কারণে সম্প্রতি সেই তেল সরবরাহ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া সংঘাত ও সহিংসতা কিছুটা কমলেও স্থায়ী কোনো শান্তিচুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়িয়ে চলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। এসব সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, অন্যান্য দেশকে তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করার মার্কিন অপচেষ্টা মূলত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল নীতির চরম পরিপন্থী।

সূত্র: আরটি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..