‘বাথরুমেও’ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা শুল্কযুদ্ধের প্রভাব

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৮, | ০১:১৯:৫৭ |

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মধ্যকার শুল্কযুদ্ধ এবার গড়িয়েছে সাধারণ মানুষের বাথরুম পর্যন্ত। কানাডার সাম্প্রতিক পাল্টা শুল্ক তালিকায় টয়লেট টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু, পেপার টাওয়েল ও কাঠের পাল্প অন্তর্ভুক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত একটি সামগ্রিক বাণিজ্য চুক্তি করার আলোচনা ভেস্তে যায়। ওয়াশিংটন ও অটোয়া; উভয় পক্ষই শেষ মুহূর্তে এসে প্রস্তাবিত চুক্তির শর্তে পরিবর্তনের চেষ্টার অভিযোগ তোলে। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াইন, সিমেন্ট, প্লাইউড এবং পোশাকসহ ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। 

প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ‌‘ডলারের বদলে ডলার’ শুল্ক হানা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার কানাডা অন্তত ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়।

এই বাণিজ্যিক টানাপোড়েনে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে কাগজ ও টিস্যু শিল্প খাত। কানাডার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত টয়লেট টিস্যু ও ফেসিয়াল টিস্যুর ওপর ২৫ শতাংশ এবং পেপার টাওয়েল ও ন্যাপকিনের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হচ্ছে। এছাড়া কাগজ তৈরির প্রধান কাঁচামাল কেমিক্যাল উড পাল্পের ওপর ধার্য করা হয়েছে ৫০ শতাংশ শুল্ক।

মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের টয়লেট টিস্যু আমদানির প্রধানতম উৎস কানাডা। ২০২৫ সালে দেশটি কানাডা থেকে প্রায় ৩৮ কোটি ৩ লাখ ডলারের টয়লেট টিস্যু আমদানি করে, যা তাদের মোট টিস্যু আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এছাড়া কাগজ শিল্পের প্রয়োজনীয় নর্দার্ন ব্লিচড সফটউড ক্রাফট পাল্পের বড় অংশ সরবরাহ করে কানাডা। যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট টয়লেট টিস্যু উৎপাদনের ৩০ শতাংশ এবং পেপার টাওয়েল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক পূরণ করে।

কানাডার এই শুল্ক কার্যকর হলে মার্কিন আমদানিকারকদের অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব গিয়ে পড়বে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর। বিশ্বের মোট টিস্যুর ২০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করে মার্কিন জনগণ। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা পরিষদ এনআরডিসি-র তথ্য অনুযায়ী, একজন গড় আমেরিকান বছরে প্রায় ১৪১ রোল টয়লেট টিস্যু ব্যবহার করেন। ফলে এই পণ্যের সামান্য দামবৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের পকেটে বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।

শুধু কাগজের পণ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের তালিকায় মাছ, পনির, পোশাক, প্রসাধনী, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ব্যায়ামের সরঞ্জাম পর্যন্ত রাখা হয়েছে। কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।

তবে কানাডার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। এই মধ্যবর্তী সময়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইউএস-কানাডা স্টাডিজের প্রধান ক্রিস্টোফার স্যান্ডস। তার মতে, হাতে থাকা এই দুই সপ্তাহ সময় উভয় পক্ষকে ভেবেচিন্তে একটি সর্বাত্মক বাণিজ্য যুদ্ধ এড়ানোর সুযোগ দিতে পারে।

সূত্র: আরটি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..