দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে আটকে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা পূরণের উদ্যোগে অবশেষে অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তালিকা প্রস্তুতের পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে।
যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পিএসসির অনুমোদন পাওয়ার পর সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে যে মামলাজনিত জটিলতা ছিল, তা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বাকি কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করা হবে।
যে কারণে এতদিন আটকে ছিল পদোন্নতি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের শূন্যতা রয়েছে। তবে শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও ব্যাপক পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এর মূল কারণ ছিল জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা।
২০১৩ সালে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তাদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
এ-সংক্রান্ত বিধিমালায় জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করা হয়। এর ফলে কোন শিক্ষক জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আটকে যায় প্রধান শিক্ষক পদে বড় পরিসরের পদোন্নতি।
আপিল বিভাগের রায়ে খুলেছে পথ
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন।
এর ফলে হাইকোর্টের আগের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান ঘটে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির পথও উন্মুক্ত হয়।
এখন গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত, যাচাই-বাছাই এবং পিএসসির অনুমোদনের ধাপ পেরিয়ে পদোন্নতির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে কয়েক বছরের জটিলতার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে বড় পরিসরে শূন্যতা পূরণের সুযোগ তৈরি হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..