✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৬, | ০২:১৩:২৭ |কোঁকড়ানো চুল সামলাতে গিয়ে অনেকেরই প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে বেশ সময় কাটে। চুলের জট, শুষ্কতা ও অতিরিক্ত ফ্রিজ নিয়ে বিরক্তিও কম নয়। তবে সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারলে কোঁকড়ানো চুলই হয়ে উঠতে পারে সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোঁকড়ানো চুলের যত্নের মূল বিষয় হলো চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং চুলের স্বাভাবিক গঠন বুঝে পণ্য ব্যবহার করা। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা, ভুল পণ্য ব্যবহার কিংবা রুক্ষভাবে চুল আঁচড়ানোর কারণে চুল আরও শুষ্ক ও জটিল হয়ে যেতে পারে।
প্রথমে বুঝুন চুলের ধরন
সব কোঁকড়ানো চুল এক ধরনের নয়। কারও চুলে হালকা ঢেউ থাকে, আবার কারও চুল ঘন ও শক্তভাবে কোঁকড়ানো। তাই অন্যের চুলে ভালো কাজ করা কোনো পণ্য আপনার চুলেও একইভাবে কাজ করবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
হালকা ঢেউ খেলানো চুলে তুলনামূলক হালকা পণ্য ব্যবহার করা যায়। চুল বেশি ঘন ও কোঁকড়ানো হলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে কিছুটা ভারী কন্ডিশনার, কার্ল ক্রিম বা লিভ-ইন কন্ডিশনার প্রয়োজন হতে পারে।
কার্ল সুন্দর রাখার কৌশল
কোঁকড়ানো চুলের স্বাভাবিক কার্ল সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পানির সঙ্গে কন্ডিশনার মিশিয়ে ‘বাটি পদ্ধতি’ ব্যবহার করা যায়। একটি বাটিতে পানি ও সামান্য কন্ডিশনার মিশিয়ে চুলের প্রান্তগুলো তাতে ডুবিয়ে আলতোভাবে স্ক্রাঞ্চ করতে হবে। এতে চুলে আর্দ্রতা যোগ হওয়ার পাশাপাশি কার্লও কিছুটা সুন্দরভাবে ফুটে উঠতে পারে।
আঙুলের সাহায্যেও চুলে কার্ল ক্রিম বা উপযুক্ত স্টাইলিং পণ্য লাগানো যায়। এতে পণ্যটি চুলে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং কার্লের আকৃতিও বজায় থাকে।
অতিরিক্ত শ্যাম্পু নয়
কোঁকড়ানো চুল সাধারণত শুষ্ক হওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা এড়িয়ে চলা ভালো। চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী সপ্তাহে কয়েকবার শ্যাম্পু করা যেতে পারে।
সালফেটমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু অনেকের ক্ষেত্রে শুষ্কতা কম রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে সবার মাথার ত্বকের প্রয়োজন এক নয়। অতিরিক্ত তৈলাক্ত মাথার ত্বক, খুশকি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে শ্যাম্পু করার রুটিনও ভিন্ন হতে পারে।
কন্ডিশনার গুরুত্বপূর্ণ
কোঁকড়ানো চুলের যত্নে কন্ডিশনারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুলের দৈর্ঘ্য ও প্রান্তে কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। সপ্তাহে একবার গভীর কন্ডিশনিং বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলেও শুষ্কতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
চুল ধোয়ার পর জোরে ঘষে পানি মুছবেন না। নরম তোয়ালে বা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে পানি শুষে নিতে পারেন।
ভেজা চুলে স্টাইলিং পণ্য
কোঁকড়ানো চুলে কার্ল ক্রিম, লিভ-ইন কন্ডিশনার বা জেল ব্যবহার করলে চুল সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় লাগানো ভালো। এতে আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং কার্লের আকৃতি বজায় রাখা সহজ হতে পারে।
একেবারে শুকনো চুলে অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহার করলে চুল ভারী, শক্ত বা আরও ফ্রিজি দেখাতে পারে।
রাতেও চাই যত্ন
ঘুমানোর সময় বালিশের সঙ্গে চুলের ঘর্ষণে কার্লের আকৃতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জট ও ফ্রিজ বাড়তে পারে। তাই সুতির বালিশের পরিবর্তে সাটিন বা সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করা যেতে পারে। চাইলে সাটিন বা সিল্কের বোনেটও ব্যবহার করা যায়।
ঘুমানোর আগে চুল মাথার ওপর আলতো করে বেঁধে রাখার ‘পাইনঅ্যাপল’ পদ্ধতিও কার্লের আকৃতি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ফ্রিজকে ভয় নয়
কোঁকড়ানো চুলে সামান্য ফ্রিজ থাকা স্বাভাবিক। বরং এটি চুলে স্বাভাবিক ভলিউম এনে দিতে পারে। তাই প্রতিটি উড়ন্ত চুল নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে চুলের স্বাভাবিক গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো।
সঠিকভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখা, উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার এবং নিয়মিত যত্ন—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে কোঁকড়ানো চুল অনেক বেশি সুন্দর, প্রাণবন্ত ও গোছানো রাখা সম্ভব।