‘ব্রেড ফর অল’ কর্মসূচিতে দুবাইয়ের অনন্য নজির

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৬, | ০২:০১:৩৩ |

দুবাইয়ের রাজপথে এখন আর কোনো ক্ষুধার্ত মানুষকে হয়তো খালি পেটে ঘুমাতে হবে না কিংবা এক বেলা খাবারের জন্য অন্যের সামনে হাত পেতে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হবে না। প্রযুক্তির অনন্য ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ গ্লোবাল সেন্টার ফর এনডাউমেন্ট কনসালটেন্সির উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘ব্রেড ফর অল’ নামের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। 

শহরটির বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন, যা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহের সাত দিনই বিনামূল্যে তাজা ও গরম রুটি বিতরণের কাজ করে যাচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে চলতে থাকা এই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে আহার পৌঁছে দেওয়া এবং তা যেন অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে ঘটে তা নিশ্চিত করা।

দুবাই বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চোখ ধাঁধানো সব আকাশচুম্বি ভবন, বিলাসবহুল জীবনযাপন আর অঢেল সম্পদের এক প্রতিচ্ছবি। তবে জাকজমকপূর্ণ এই নগরীর আড়ালেও এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হন। সেই সমস্ত প্রান্তিক ও দুস্থ মানুষের সেবায় প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মেশিনগুলো। এই স্বয়ংক্রিয় কিওস্কগুলোর বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো কেবল আগে থেকে তৈরি খাবার সংরক্ষণ করে না বরং যন্ত্রের ভেতরেই সার্বক্ষণিক তাজা রুটি প্রস্তুত ও শেঁকা হয়। এর ফলে গভীর রাতেও যখন শহরের সব দোকানপাট বা সহায়তা কেন্দ্র বন্ধ থাকে, তখনও একজন ক্ষুধার্ত মানুষ একদম গরম ও পুষ্টিকর রুটি বা খাবার পেয়ে যান।

প্রকল্পটির সবচেয়ে ভালো দিক হলো এটি সুবিধাবঞ্চিতদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা বজায় রাখে। সাধারণত কোনো দাতব্য সংস্থা থেকে সাহায্য নিতে গেলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়, বিভিন্ন ধরনের নিবন্ধন বা ফরম পূরণ করতে হয় এবং অনেক সময় অন্যদের করুণার পাত্র হতে হয়। এতে অনেকেই তীব্র ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও লোকলজ্জার ভয়ে সাহায্য চাইতে আসেন না। ‘ব্রেড ফর অল’ মেশিনটি এই অদৃশ্য বাধা পুরোপুরি দূর করে দিয়েছে। এখানে কোনো কর্মচারী বা তদারককারী থাকেন না। খাদ্যপ্রার্থী ব্যক্তিটি কোনো প্রশ্ন বা বিচারপ্রার্থী দৃষ্টির মুখোমুখি না হয়েই সরাসরি মেশিনের সামনে গিয়ে সম্পূর্ণ নিঃশব্দে রুটি সংগ্রহ করে চলে যেতে পারেন।

শুধু খাদ্য বিতরণেই এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ নয় এর সাথে যুক্ত রয়েছে নাগরিক অংশগ্রহণের এক চমৎকার সংযোগ। এসব স্বয়ংক্রিয় মেশিনে খাবার গ্রহণের পাশাপাশি সরাসরি অর্থ দান করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। ফলে পথচলতি যে কোনো মানুষ বা বিত্তবান নাগরিক, যারা ক্ষুধার্তদের পাশে দাঁড়াতে চান, তারা সেখানে নগদ বা কার্ডের মাধ্যমে অর্থ সহযোগিতা করতে পারেন। এই অর্থ সরাসরি পরবর্তী ব্যাচের রুটি তৈরির কাঁচামাল সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, এটি একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ দাতব্য মডেলে পরিণত হয়েছে, যা কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে পুরো সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একসাথে যুক্ত হতে উৎসাহিত করে।

সূত্র: সিপিজি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..