ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন চেষ্টা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে: বিশেষজ্ঞ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৬, | ০১:৫৮:৫৩ |

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান আত্মসমর্পণের বদলে আরও সংঘাত ও উত্তেজনার পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করছেন ইতালির তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক লরেঞ্জো কামেল। 

তার মতে, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কামেল বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা হলো—ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে তার ফল হতে পারে ঠিক উল্টো। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপ ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে দেশটির আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণ হতে পারে।

কামেল বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্ন করার নীতি নতুন কোনও কৌশল নয়। অতীতের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর নেওয়া কিছু পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান ও পরবর্তী ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার মতে, যেসব শক্তি ইরাককে ব্যাপকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল, তারাই এখন ইরানকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলছে। অথচ ইরাকের পতন ও দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব ও মিত্রজোট আরও বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছিল।

কামেলের ভাষায়, ইরানকে চাপের মধ্যে রেখে বিচ্ছিন্ন করার নীতি অতীতে যেমন প্রত্যাশিত ফল দেয়নি, ভবিষ্যতেও তা একইভাবে ব্যর্থ হতে পারে। বরং এ ধরনের চাপ ইরানকে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইসরায়েলের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
চলমান যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেছেন কামেল। তার দাবি, এই যুদ্ধ দেখিয়েছে যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে দেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কামেলের মতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তাতেও ইসরায়েলের অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, লেবানন ফ্রন্টকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। অর্থাৎ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পাশাপাশি লেবাননকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে তা যুদ্ধের পরিধি ও স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষক কামেলের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আনা হলেও, তেহরান এ ধরনের পদক্ষেপের জবাবে আরও কঠোর অবস্থান নিলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ফলে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন নীতি দেশটিকে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকারে বাধ্য করবে, নাকি আরও সংঘাতমুখী ও আঞ্চলিকভাবে সক্রিয় করে তুলবে—এ প্রশ্নই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..