রাগের মুহূর্তে নিজেকে সামলাবেন যেভাবে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৫, | ১১:২৩:৪৬ |

অল্পতেই রেগে যাওয়া অনেক সমস্যার কারণ হতে পারে। পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা সত্ত্বেও ছোটখাটো ঘটনায় সবাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। তবে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে রাগের মুহূর্তে নিজেকে শান্ত রাখা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক থেরাপিস্ট জেফরি মেল্টজার সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে রাগ নিয়ন্ত্রণের পাঁচটি কার্যকর কৌশল তুলে ধরেছেন।

১. মুখে ঠান্ডা পানি দিন

রাগের মাত্রা বেড়ে গেলে বাথরুমে গিয়ে মুখে ঠান্ডা পানি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেফরি। চাইলে গালে কিছুক্ষণ ঠান্ডা কোনো জিনিসও রাখা যেতে পারে। তার মতে, মুখ ঠান্ডা করলে শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হতে পারে। এতে হৃদস্পন্দন ধীর হতে সাহায্য করে এবং কোনো পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা ঠিক করার আগে শরীরকে কিছুটা শান্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

২. অন্যের আচরণকে সবসময় নেতিবাচকভাবে দেখবেন না

কেউ কোনো আচরণ করলেই সেটিকে ইচ্ছাকৃত অপমান বা খারাপ উদ্দেশ্য হিসেবে ধরে নিলে রাগ আরও বেড়ে যেতে পারে। জেফরির পরামর্শ, কারও আচরণে বিরক্ত হওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে কি না। হয়তো ওই ব্যক্তি আপনাকে দেখেননি, কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে ক্ষতিকর আচরণকে উপেক্ষা করতে হবে। বরং যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা নেই, সেটিকে নিজের ধারণা দিয়ে আরও নেতিবাচক করে না তোলাই ভালো।

৩. রাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখুন

কোনো বিষয় খুব বিরক্ত করলে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট সময় নিয়ে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে পারেন কিংবা কী কারণে রাগ হচ্ছে, তা লিখে ফেলতে পারেন। এরপর ইচ্ছাকৃতভাবে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। কারণ একই ঘটনা বারবার মনে মনে ঘুরিয়ে দেখলে সেটিকে ‘রুমিনেশন’ বা নেতিবাচক চিন্তার পুনরাবৃত্তি বলা হয়। এতে রাগ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অর্থাৎ, নিজের অনুভূতিকে কিছুটা সময় দিন, কিন্তু পুরো দিন ধরে একই ঘটনা নিয়ে ভাবতে থাকবেন না।

৪. প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে শরীরকে শান্ত করুন

রাগের মুহূর্তে প্রায় এক মিনিট ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেফরি। প্রায় চার সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন এবং ছয় সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। তার মতে, রাগ নিয়ন্ত্রণে শরীরের উত্তেজনা কমানোর কৌশল অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। তাই রাগ প্রকাশ করার আগে শরীরকে শান্ত করা জরুরি। তার ভাষায়, আগে শরীরকে শান্ত করুন, তারপর কী করতে চান তা ঠিক করুন।

৫. ঘুম ও দৈনন্দিন যত্নকে গুরুত্ব দিন

অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকলে মানুষের সহ্যশক্তি কমে যায়। ফলে ছোটখাটো বিষয়েও সহজে বিরক্ত বা রেগে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এ কারণে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং কিছুটা সময় সূর্যের আলোতে কাটানোর মতো মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জেফরি।

শরীর ও মন যত বেশি ক্লান্ত থাকবে, ছোটখাটো বিরক্তিকর পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা তত কঠিন হবে। তাই দৈনন্দিন জীবনের এই মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখলে সামান্য বিরক্তিকর ঘটনাও আচরণ ও কথাবার্তার ওপর অতটা প্রভাব ফেলবে না।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..