মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের রাজনৈতিক জীবন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২২, | ০১:২১:১১ |

দীর্ঘকাল বিএনপি জোটে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা, একাধিকবার কারাবরণের মধ্য দিয়ে পরীক্ষিত নেতা হয়ে ওঠা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ অবশেষ বর্তমান সরকারের মন্ত্রী। এমন খবর শুক্রবার বিকালে ছড়িয়ে পড়লে ভোলায় আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভাসতে থাকেন তার নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর হিড়িক। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ রাতে যুগান্তরকে জানান, তাদের দলের চেয়ারম্যানের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার কথা প্রথম থেকেই ছিল। এতে ভোলাবাসী খুবই খুশি। ভোলা-১ আসন থেকে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পার্থ। নির্বাচনের আগে তার প্রতিশ্রুতি ছিল- ভোলা-বরিশাল ব্রিজ, সরকারি মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করা, মজুত গ্যাসে শিল্পায়ন করা। বরিশালের নির্বাচনি জনসভায় খোদ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন- ক্ষমতায় গেলে ভোলায় মেডিকেল কলেজ ও ব্রিজ নির্মাণের। স্থানীয়রা ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মহেন্দ্রক্ষণ শুরু বলেও মনে করেন  ব্যারিস্টার পার্থের মন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে। এদিকে রাতে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

আন্দালিভ রহমান পার্থের রাজনৈতিক জীবন

পার্থ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শুক্রবার রাতে শপথ গ্রহণ করেছেন। তিনি ১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নাজিউর রহমান মঞ্জু ছিলেন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও ঢাকা সিটির মেয়র। মা মিসেস রেবা রহমান একজন সমাজসেবক। গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলা সদরের উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া তালুকদার বাড়ি। এলাকায় বনেদি পরিবার হিসেবে পরিচিত। তেমনি তার মাতৃবংশ এদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার অংশ হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে ৬ এপ্রিল বাবার মৃত্যুর পর বিজেপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন পার্থ। ওই বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যুব সমাজের আইকন হয়ে ওঠেন। টকশোতে তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যক্তি হয়ে উঠেন।

শিক্ষা জীবন

লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-এট-ল অর্জন করেন। তিনি সেন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। প্রখর এই মেধাবী রাজনীতিবিদ ছাত্র জীবন থেকেই তার মেধা বিকাশের প্রমাণ দেন। শিক্ষা জীবন শেষে ঢাকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। গড়ে তোলেন ব্রিটিশ স্কুল অব ল কলেজ। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতি 

২০০০ সালে বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন পার্থ। ২০০৫ সালের ১৬ মার্চ ভোলায় অনুষ্ঠিত ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার বিএনপি আয়োজিত এক রাজনৈতিক প্রতিনিধি সম্মেলনে চারদলীয় জোট নেতা নাজিউর রহমান অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে বাবার শুভেচ্ছাবাণী পাঠ করার মধ্য দিয়ে বিএনপি জোটে পার্থের প্রথম প্রকাশ বলেও মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ওই সময় দৈনিক যুগান্তরে প্রথম পাতায় বক্স নিউজ ছিল ’রাজনীতিতে আসছেন নাজিউর পুত্র পার্থ’। এর পর থেকে নানা কর্মকাণ্ডে আলোচনায় উঠে আসেন পার্থ। নিজের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে রাজনীতিতে আসন পাকাপোক্ত করে তোলেন।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট ইউছুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করে ভোলা-১ আসনে বিজয়ী হন পার্থ। ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে তার দল বিএনপি জোটের সঙ্গে আন্দোলনে থেকে নির্বাচন বয়কর করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে ছিলেন। সেবার তিনি ওই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই আসনে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি ওই আসন থেকে সরে এসে ভোলা-১ আসনে প্রার্থী হন এবং বিজয় লাভ করেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..