✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২২, | ০১:১২:০৩ |প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়া চক্র ‘এল নিনো’র প্রভাবে শ্রীলংকায় দেখা দিয়েছে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা। বৃষ্টিপাতের তীব্র ঘাটতিতে দেশটির শত শত ছোট-বড় জলাধারের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে নেমে এসেছে প্রায় ১০ শতাংশে। এর সরাসরি প্রভাবে সুপেয় পানি ও গৃহস্থালি ব্যবহারের পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে সাতটি জেলার প্রায় ৭২ হাজার মানুষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবারহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জলবায়ুর স্বাভাবিক পরিবর্তনজনিত এই প্রক্রিয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার চরম তারতম্য দেখা দেয়, যা কোথাও খরা আবার কোথাও বন্যার ঝুঁঁকি বাড়িয়ে তোলে। শ্রীলংকায় ইতোমধ্যেই শত শত ছোট জলাধারের পানির স্তর কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ শতাংশে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সুপেয় পানির সরবরাহে এবং নারিকেল ও শাকসবজির মতো কৃষিনির্ভর ফসলের ওপর।
খরা মোকাবিলা ও গৃহস্থালি কাজের জন্য পানি পৌঁছাতে শ্রীলংকা সরকার বাজেট থেকে ৪.৮ বিলিয়ন রুপি বা প্রায় ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে। দেশের অনাক্রান্ত অঞ্চলগুলো থেকে ট্যাঙ্কার ট্রাকে করে পানি এনে দুর্গত এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পরিবার দুই থেকে তিন দিন পর পর প্রায় ৭৫ লিটার পানি পাচ্ছে।
পরিবেশমন্ত্রী ধাম্মিকা পাতাবেন্দি জানিয়েছেন, পূর্বে নভেম্বরের দিকে এল নিনোর প্রভার তুঙ্গে পৌঁছানোর কথা ধারণা করা হলেও এখন তা আরও আগেই দৃশ্যমান হচ্ছে। সরকার আপাতত সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সীমা আরও বাড়াবে। যদিও সেপ্টেম্বরের পর বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে আগামী বছরের শুরুতে পুনরায় খরা ফিরে আসার একটি বড় আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা ওয়াটারএইড এবং যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল ও কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক যৌথ গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার বড় মেগাসিটিগুলো অভূতপূর্ব বৈরী আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। টানা ৪৪ বছরের বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, এল নিনোর তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ধারায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। যার ফলে ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও কিছু শহর চরম খরার দিকে ধাবিত হয় এবং অন্যগুলোতে দেখা দেয় মারাত্মক বন্যা।
গবেষণার তথ্যমতে, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও সুরাবায়া, কম্বোডিয়ার পনম পেন, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং ভারতের মুম্বাই শহর তীব্র খরার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে চীনের সাংহাই ও হাংঝু এবং শ্রীলংকার কলম্বোয় অতিবৃষ্টি ও বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।