নারী-পুরুষের মধ্যে কে বেশি কথা বলেন? নতুন গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২২, | ০১:১০:৪৩ |

নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি কথা বলেন এমন ধারণা সমাজে দীর্ঘদিনের। তবে বিষয়টি আসলে কতটা সত্য, তা নিয়ে গবেষণাও হয়েছে একাধিকবার। এবার দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক মানুষের কথোপকথনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এ বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য সামনে এনেছেন। আগের একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, নারী ও পুরুষ উভয়েই দিনে গড়ে প্রায় ১৬ হাজার শব্দ ব্যবহার করেন। তবে সেই গবেষণার পরিসর ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। নতুন গবেষণায় আরও বড় পরিসরে মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় চারটি দেশের ১০ থেকে ৯০ বছর বয়সী ২ হাজার ১৯৭ জন নারী ও পুরুষের অডিও রেকর্ড পর্যালোচনা করা হয়। প্রায় আট বছর ধরে সংগৃহীত এসব তথ্যের মধ্যে ছিল প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার অডিও রেকর্ড।

২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সে পার্থক্য বেশি

গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সব বয়সের মানুষকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে নারী ও পুরুষের কথা বলার পরিমাণে খুব বড় পার্থক্য দেখা যায়নি। কিন্তু ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান পাওয়া গেছে। এই বয়সের নারীরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২১ হাজার ৮৪৫টি শব্দ ব্যবহার করেন। বিপরীতে একই বয়সের পুরুষদের দৈনিক শব্দ ব্যবহারের গড় প্রায় ১৮ হাজার ৫৭০টি।

অর্থাৎ এই বয়সসীমায় নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২৭৫টি বেশি শব্দ ব্যবহার করেন। তবে কেন এই বয়সে নারীদের কথা বলার পরিমাণ বেশি এর নির্দিষ্ট উত্তর এখনও দিতে পারেননি গবেষকরা। গবেষণায় সম্ভাব্য কয়েকটি কারণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা এবং জীবনের এই সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন।

সময়ের সঙ্গে কমছে মুখোমুখি কথাবার্তা

গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয়ও উঠে এসেছে। ২০০৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মানুষের কথাবার্তার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সামনাসামনি কথা বলার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমেছে। ২০০৫ সালে একজন মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬ হাজার শব্দ বলতেন। কিন্তু ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ১৩ হাজারে।

গবেষকদের ধারণা, মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ হতে পারে। সামনাসামনি বা সরাসরি কথা বলার পরিবর্তে বর্তমানে মানুষ টেক্সট মেসেজ, অনলাইন চ্যাট ও অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটাচ্ছেন। তবে ডিজিটাল যোগাযোগ বৃদ্ধিই যে মানুষের মুখে কথা বলার পরিমাণ কমার একমাত্র কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তাহলে আসল উত্তর কী?

গবেষণার ফলাফল বলছে, নারী বা পুরুষ কেউই সব বয়সে স্বাভাবিকভাবে বেশি কথা বলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বয়সভেদে কথাবলার প্রবণতায় পার্থক্য তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় বেশি শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে। তাই ‘নারীরাই বেশি কথা বলেন’এই প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি সত্য বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি পুরোপুরি ভুল বলাও যায় না। বয়স, সামাজিক ভূমিকা ও যোগাযোগের ধরন সবকিছু মিলিয়েই মানুষের কথাবলার পরিমাণে পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..