কিডনি সুস্থ রাখতে দিনে কত লিটার পানি পান করবেন? জানালেন চিকিৎসক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২২, | ০১:০৯:৪৯ |

কিডনির অসুস্থতা অনেক সময় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত হওয়ার সময় কিডনির কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই শুরু থেকেই কিডনির যত্ন নেওয়া এবং কিছু সাধারণ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। নেফ্রোলজিস্ট সুনীত সিং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিওতে কিডনি ভালো রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোন কোন অভ্যাস কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।

রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

কিডনির সুস্থতার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং ডায়াবিটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট শরীরচর্চা করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি কিডনির জন্যও উপকারী। এ ছাড়া প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে, প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি হলে বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

কিডনি ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার একটি হলো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া। বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। অনেকেই সাধারণ ব্যথা বা জ্বরের মতো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ গ্রহণ করেন। নিয়মিত এমন অভ্যাস থাকলে তা কিডনির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ

কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকা প্রয়োজন। পানি শরীরের তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞের মতে, সাধারণভাবে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে খাবারের মাধ্যমেও শরীরে কিছুটা তরল যায়। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, আবহাওয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় অনুযায়ী পানির প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। অনেকে শরীরচর্চার সময় সাধারণ পানির পরিবর্তে ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত পানীয় বেছে নেন। তবে সবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। বিশেষ করে কিডনির রোগ থাকলে এ ধরনের পানীয় গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

রোগ ধরা পড়লে নিয়মিত ফলো-আপ করুন

কিডনির কোনো সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক রোগী কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর নিয়মিত ওষুধ খাওয়া বা চিকিৎসকের কাছে ফলো-আপ করা বন্ধ করে দেন। এতে রোগ ধীরে ধীরে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই কোনো কিডনি রোগ ধরা পড়লে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা এবং প্রেসক্রাইব করা ওষুধ নিয়ম মেনে গ্রহণ করা উচিত।

কিডনি সুস্থ রাখতে তাই মূল বিষয় হলো, রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খাওয়া এবং কোনো সমস্যা ধরা পড়লে নিয়মিত চিকিৎসকের ফলো-আপে থাকা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..