চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৃথিবীর কিছু অণুজীব বেঁচে থাকতে পারে, জানাল নাসা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২২, | ০১:০০:০১ |

চাঁদকে রুক্ষ ও প্রাণহীন মনে হলেও সেখানে পৃথিবীর ক্ষুদ্র অতিথিরা দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। মানুষের সঙ্গে মহাকাশে যাওয়া এসব অণুজীব চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ছায়াযুক্ত অঞ্চলে টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১৯ আগস্ট ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষক প্রবাল সাক্সেনা এর নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, মানুষ যেখানেই যায়, নিজেদের অজান্তেই অসংখ্য অণুজীব বহন করে। মানুষের ত্বকের সামান্য অংশেই প্রায় ১০ লাখ ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা স্পেসসুট গলে সহজেই চাঁদের বুকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে ‘অ্যাসপারগিলাস নাইজার’ নামের একটি ফাঙ্গাস। সাধারণত বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এটি জন্মায়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও এর দেখা মিলেছে। নাসার গবেষক অ্যারন রেগবার্গ ভেবেছিলেন, মহাকাশের চরম শুষ্ক পরিবেশে এটি মারা যাবে। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, দক্ষিণ মেরুর তিনটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে (নোবাইল রিম, কানেকটিং রিজ ও ডি গার্লাশ রিম) এগুলো সুপ্ত অবস্থায় টিকে থাকতে সক্ষম।

অণুজীবের এই টিকে থাকার ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ। নাসার বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু নিডহাম জানান, চাঁদে বা ভবিষ্যতে মঙ্গলে ভিনগ্রহের প্রাণের সন্ধান করতে গিয়ে পৃথিবীর অণুজীবের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। অবশ্য চাঁদের পরিবেশে এসব অণুজীব বড় হতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এই পরিস্থিতিকে মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ল্যাবরেটরি হিসেবেও দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..