✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১০, | ১৯:৩২:৪৩ |জুলাই মাসের আইসিসি নারী ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত ক্রিকেটারদের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। এই তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস, শ্রীলঙ্কার হারশিতা সামারাবিক্রমা এবং ইংল্যান্ডের নাট সিভার-ব্রান্ট স্থান পেয়েছেন।
জুলাই মাসে খেলা তিনটি ওয়ানডেতে হেইলি ম্যাথিউস দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। এই অলরাউন্ডার ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ-জয়ী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তিনি দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন, যার মধ্যে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৫৯ রানের ইনিংসটি ছিল তার ক্যারিয়ার-সেরা।
প্রথম ম্যাচে ব্যাট ও বল উভয় ক্ষেত্রেই ম্যাথিউস ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। প্রথম ইনিংসে ৫২ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর রান তাড়া করতে নেমে তিনি অপরাজিত ১৫৯ রানের ইনিংস খেলেন এবং রিয়ালিয়ানা গ্রিমন্ডের সঙ্গে রেকর্ড-গড়া জুটি গড়েন।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং বল হাতে ৩৪ রানে নেন ২ উইকেট। তৃতীয় ওয়ানডেতে মাত্র ছয় রান করলেও, বল হাতে ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাথিউস আবারও একজন পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। তিন ম্যাচ মিলিয়ে তিনি ১৩২.৫০ গড় ও ১১৭.২৫ স্ট্রাইক রেটে মোট ২৬৫ রান করেন এবং ১৭.৫৭ গড়ে সাতটি উইকেট শিকার করেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কার হারশিতা সামারাবিক্রমা দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। তিনি ১৭৩ গড় ও ৭৭.২৩ স্ট্রাইক রেটে মোট ১৭৩ রান সংগ্রহ করেন। শ্রীলঙ্কার ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সিরিজের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি এই বাঁহাতি ব্যাটারের; প্রথম ওয়ানডেতে তিনি মাত্র দুই রান করতে পেরেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। ১১৯ বলে চমৎকার ১০০ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি বিশমি গুনারত্নের সঙ্গে ২০৩ রানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কার সফল রান তাড়ায় বড় ভূমিকা রাখেন।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও সামারাবিক্রমা সেই ছন্দ ধরে রাখেন। ১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত করার পথে তিনি অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংস খেলেন। পুরো সিরিজজুড়ে ম্যাচ-জয়ী অবদানের জন্য তিনি ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ পুরস্কার অর্জন করেন।
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে ইংল্যান্ডের যাত্রায় নাট সিভার-ব্রান্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দলের যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই তিনি জ্বলে ওঠেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড যখন ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল, তখন সিভার-ব্রান্ট ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হওয়ার মতো দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন।
তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৭৫ রান করে দলের ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। হেদার নাইটের সঙ্গে তার গড়া কার্যকরী জুটি ইংল্যান্ডকে একটি শক্তিশালী সংগ্রহ দাঁড় করাতে সাহায্য করে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের ফাইনালে জায়গা করে নিতে সহায়তা করে।
যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড জয়লাভ করতে পারেনি, তবুও চাপের মুখে সিভার-ব্রান্ট আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। তিনি ৫৩ বলে মূল্যবান ৫৮ রান করে দলকে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করাতে সহায়তা করেন। সব মিলিয়ে তিনি ১৩৩ স্ট্রাইক রেটে মোট ১৩৩ রান সংগ্রহ করেন।