অস্ত্র সংকট: ইরান যুদ্ধের ধাক্কা মার্কিন অস্ত্রাগারে, দীর্ঘ হলে মহাবিপদে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৯, | ১৪:২৮:১১ |

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে নিজেদের অস্ত্রের মজুদ ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যাতে চাপের মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

২১ দিনের মধ্যে উৎপাদন পরিকল্পনা চেয়েছে পেন্টাগন

মার্কিন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের কাছে সম্প্রতি একটি জরুরি স্মারক পাঠিয়েছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই স্মারকে প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোকে আগামী ২১ দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহের সময় কমিয়ে আনার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।

ফেইনবার্গের ভাষায়, বছরজুড়ে অস্ত্র উৎপাদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া আর গ্রহণযোগ্য নয়। সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেলও এই উদ্যোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক হুমকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্যাট্রিয়ট ও থাডের মজুদে টান

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ছিল। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এবং সাম্প্রতিক লড়াইয়ের পর এই সংখ্যা আনুমানিক ৭৫৯ থেকে ৮২৭টিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুদ অন্তত ৬৫ শতাংশ কমেছে।

থাড ইন্টারসেপ্টরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপের কথা বলা হয়েছে। সংঘাতের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪৫২টি থাড মিসাইল ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা আনুমানিক ২৩৪ থেকে ২৭৮টিতে নেমে এসেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক মিসাইল ব্যবহারে আরও হিসাব করে এগোতে হতে পারে।

অস্ত্র সংকটের দাবি নাকচ ট্রাম্পের

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ার এসব প্রতিবেদন নাকচ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

অর্থাৎ পেন্টাগনের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগকে অস্ত্রের তাৎক্ষণিক সংকট হিসেবে দেখার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ভিন্ন।

বাড়তি সামরিক বাজেট নিয়েও জট

এদিকে অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়েও জট তৈরি হয়েছে।

পেন্টাগন ২০২৮ অর্থবছরকে সামনে রেখে সামরিক শিল্প পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যেই নতুন প্রতিরক্ষা বিল নিয়ে কংগ্রেসে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

গত বছরের ৯০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার হোয়াইট হাউসের প্রস্তাবে অনেক আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন।

ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে একদিকে অস্ত্রের মজুদ ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে বাড়তি সামরিক বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..