✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৯, | ১৪:০১:২২ |তারকার জীবন মানেই যেন আলো, ক্যামেরা আর প্রযুক্তির সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের প্রচারণা কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া-সবকিছুতেই স্মার্টফোন এখন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু এই চেনা অভ্যাস থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল।
প্রায় এক বছর ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন না তিনি। প্রায় এক বছর ধরে ব্যবহার করছেন ‘ডাম্ব ফোন’ বা সাধারণ বাটন ফোন। এমনকি ভবিষ্যতে সাধারণ মুঠোফোনটিও ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
ফাহাদের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সময়কে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানোর ইচ্ছা। অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা ও মনোযোগ নষ্ট করা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়েছেন তিনি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ‘মারিসান’ সিনেমার প্রচারণার একটি অনুষ্ঠানে ফাহাদকে সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি সাধারণ মুঠোফোন ব্যবহার করছেন।
ফাহাদের পরিকল্পনা আরও বড়। আগামী দুই বছরের মধ্যে মুঠোফোন ব্যবহার পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা তার। তখন শুধু ই-মেইলের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত নন অভিনেতা।
তবে প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন না ফাহাদ। প্রয়োজন হলে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কোনো সক্রিয় উপস্থিতি নেই।
একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন ফাহাদ। কিন্তু সেখানে কী লিখবেন, কী প্রকাশ করবেন কিংবা কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত কি না-এসব নিয়ে স্বস্তিতে ছিলেন না তিনি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলো জনসমক্ষে চলে আসুক, সেটিও চাইতেন না। তাই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন।
ফাহাদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজের সময় ও মনোযোগ। নির্দিষ্ট রুটিনে জীবন কাটিয়ে অভিনয়ের কাজে আরও বেশি মন দিতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, অপ্রয়োজনীয় কোনো কিছু যদি মনোযোগ কেড়ে নেয়, তাহলে সৃষ্টিশীল কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর সেই কারণেই স্মার্টফোনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর অভ্যাস কমিয়ে এনেছেন তিনি।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রযুক্তির চেয়ে কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেন ফাহাদ। মালয়ালম সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই অভিনেতা এখন তামিল ও তেলেগু সিনেমাতেও সমানভাবে পরিচিত। ‘পুষ্পা’, ‘বিক্রম’, ‘সুপার ডিলাক্স’, ‘আবেশম’, ‘জোজি’, ‘মহেশিন্তে প্রতিকারম’সহ একাধিক সিনেমায় তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
ফাহাদের অভিনয়জীবনের শুরুটা অবশ্য ছিল হতাশার। ২০০২ সালে বাবা ফাসিলের পরিচালনায় ‘কাইয়েথুম দুরাথ’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। কিন্তু প্রথম সিনেমাই ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। এরপর অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেন।
সাত বছর পর দেশে ফিরে আবার অভিনয়ে মন দেন ফাহাদ। দ্বিতীয়বারের সেই যাত্রাতেই বদলে যায় তার ক্যারিয়ার। ‘কেরালা ক্যাফে’ দিয়ে ফেরার পর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। ২০১৮ সালে ‘থন্ডিমুথালুম দৃকসাক্ষীয়ুম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান।
তবে এত সাফল্যের পরও নিজেকে সফল অভিনেতা মনে করেন না ফাহাদ। তার মতে, এখনো এমন একটি সিনেমার অপেক্ষায় আছেন, যেটির পর নিজের ক্যারিয়ারকে সফল বলতে পারবেন।
স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার বিষয়েও তার দর্শন অনেকটা অভিনয়ের মতোই সরল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকলে নতুন প্রজন্মের দর্শকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ফাহাদের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য, দর্শকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হবে সিনেমার মাধ্যমেই।
অভিনেতার মতে, যেদিন তিনি সিনেমায় খারাপ অভিনয় করা শুরু করবেন, সেদিনই দর্শকের কাছ থেকে দূরে সরে যাবেন। স্মার্টফোন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করা তাকে দর্শকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।
প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে একজন তারকার এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। তবে ফাহাদের কাছে এটি কোনো প্রচারণার কৌশল নয়; বরং নিজের সময়, মনোযোগ ও জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার একটি সচেতন চেষ্টা।