✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৮, | ১৮:৪৪:৫১ |অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে ক্যাম্পবেল থম্পসন এখনো বড় কোনো নাম নন। জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা নেই, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। অথচ সেই অনভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসারই ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন।
তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৫ রান খরচ করে বাংলাদেশের ৮ উইকেট তুলে নিয়েছেন ২২ বছর বয়সী থম্পসন। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
থম্পসনকে অবশ্য গতির ঝড় তোলা এক্সপ্রেস পেসার বলা যাবে না। তাঁর মূল শক্তি নিয়ন্ত্রিত বোলিং, সুইং এবং স্টাম্প লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে বল করে যাওয়া। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
নতুন বলে সুইং করানোর পাশাপাশি স্টাম্প বরাবর আক্রমণাত্মক লাইন ধরে রাখেন থম্পসন। তাতেই একের পর এক বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান তাঁর শিকার হয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অমিত হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ছাড়া বাংলাদেশের সবাইকে আউট করেছেন এই বাঁহাতি পেসার।
সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেনের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরাও তাঁর সামনে টিকতে পারেননি। বাংলাদেশের হয়ে দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন কেবল তানজিদ হাসান। ওপেনার করেছেন ২২ রান।
থম্পসনের পাশে কোরি রোচিচ্চিওলি দুটি উইকেট না নিলে বাংলাদেশের ইনিংস আরও ভয়াবহভাবে শেষ হতে পারত।
নিজের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও অবশ্য কৃতিত্ব পুরোপুরি নিজের দিকে নিতে চাননি থম্পসন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, কখনো কখনো ভাগ্যও সহায় হয়। তবে তাঁর ৮ উইকেট যে কেবল ভাগ্যের ফল নয়, তা স্পষ্ট তাঁর বোলিংয়ের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নতুন বল নিয়ে কী করতে হবে, সেটিও পরিষ্কার ছিল তাঁর। থম্পসনের ভাষায়, বল সুইং করানো এবং স্টাম্পে আঘাত করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
গত মৌসুমে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। তার আগে প্রাইম মিনিস্টার্স একাদশের হয়ে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
এরপর দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে কাপ ও শেফিল্ড শিল্ডে খেলেছেন থম্পসন। শেফিল্ড শিল্ডে উসমান খাজার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকেও বেশ ভুগিয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করেছে।
তবে গত মৌসুম চোটের কারণে মাঝপথেই থেমে যায় তাঁর। ওয়ানডে কাপের একটি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে প্রায় এক মাস পুনর্বাসনে থাকতে হয় তাঁকে। এরপর প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতিতে ফেরেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেট পাওয়ার পরও ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি দূরের পরিকল্পনা করছেন না থম্পসন। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চান এই তরুণ পেসার।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য তার এই পারফরম্যান্স বড় সতর্কবার্তা। কারণ ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। সেখানে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বমানের পেসাররা। প্রস্তুতি ম্যাচের থম্পসনের অভিজ্ঞতাই বলে দিচ্ছে, মূল পরীক্ষাটি বাংলাদেশের জন্য কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে।