লিফট হঠাৎ আটকে গেলে ভেতরে থাকা অনেকেই ভয় পেয়ে যান। কারো কারো উদ্বেগ শুরু হয়। আর উদ্বেগ থেকে শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। ভয় ও উদ্বেগ থেকে প্যানিক অ্যাটাকও হতে পারে। তাই লিফট আটকে গেলে ভয় না পেয়ে কিছু কৌশল মেনে চলতে হবে।
নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিধি
লিফট প্যানেলে থাকা ‘বেল’ চিহ্নের বোতামটি কিছুক্ষণ চেপে রাখুন। এতে আপৎকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে সকলে সচেতন হবেন।
লিফটে ইন্টারকম থাকলে তাতে কথা বলুন। এখনকার অনেক লিফটে সরাসরি নিরাপত্তারক্ষী বা কেয়ারটেকারের সঙ্গে কথা বলা যায়।
লিফটে নেটওয়ার্ক থাকলে অবিলম্বে স্থানীয় জরুরি পরিষেবা বা আপনার স্বজনদের ফোন বা মেসেজ করে বিষয়টি জানান।
অন্ধকার হয়ে গেলে মোবাইলের আলো জ্বালান। আলো থাকলে ভয় অনেকটাই কমে যায়। তবে ব্যাটারি বাঁচাতে অপ্রয়োজনে আলো জ্বালিয়ে রাখবেন না।
লিফটের দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করবেন না। লিফট হঠাৎ চলা শুরু করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
লিফটের ভেতরে লাফালাফি বা হাঁটাহাঁটি না করে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকার চেষ্টা করুন। এতে মন শান্ত হবে, শ্বাসকষ্টও হবে না।
উদ্বেগ সামলানোর উপায়
অতিরিক্ত উদ্বেগ বা প্যানিক অ্যাটাক শুরু হলে, স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে বক্স ব্রিদিং করুন। এটি চার ধাপে করতে হয়। প্রথমে শ্বাস ছাড়ুন। তার পর ২০ সেকেন্ড স্থির হয়ে থাকতে হবে। এর পর গভীর ভাবে শ্বাস টানুন টানা ১০ সেকেন্ড ধরে। শ্বাস ধরে রেখে ৫ গুনুন। তার পর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন আবারও ১০ সেকেন্ড ধরে।
নাকের এক দিক আঙুলের সাহায্য বন্ধ রেখে অন্য দিকের ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নিতে হবে। তার পর শ্বাস নেওয়া হয়েছে যে ছিদ্র দিয়ে, সেটি আঙুল দিয়ে চেপে অন্য ছিদ্র দিয়ে সেই শ্বাস বার করতে হবে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে এই প্রাণায়াম বা ব্যায়ামটি খুব কাজের।
ক্লস্ট্রোফোবিয়া থাকলে
গভীর ভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। এই ভাবে টানা ১০ বার করে ২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবারও ১০ বার করুন।
লিফটে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ান বা মেঝেতে বসে পড়ুন। এ বার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে এক বার মুঠো খুলুন, পরে শক্ত করে বন্ধ করুন। টানা ৫ বার দুই হাতেই করতে হবে।
অনেক লিফটে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। কাজেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাবে, এমন ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
এ জাতীয় আরো খবর..