হোসে মরিনহোর একটা অলিখিত রীতি আছে। সাধারণত কোনো মিডফিল্ডারকে কেন্দ্র করে রণনীতি সাজান তিনি। এই যেমন বেনফিকাতে মরিনহোর সেনানী ছিলেন মিডফিল্ডার ডেকো। চেলসিতে পর্তুগিজ এ কোচের দলের মস্তিষ্ক ছিলেন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। ইন্টার মিলানে তাঁর মূল অস্ত্র ছিলেন ডাচ মিডফিল্ডার ওয়েসলি স্নাইডার। রিয়াল মাদ্রিদে প্রথম দফায় কোচিং করানোর সময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকা থাকার পরও তাঁর দলের প্রাণ ছিলেন মিডফিল্ডার জাবি আলোনসো। এরপর মরিনহো যখন স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে ফেরেন, সেস ফাব্রেগাসকে বার্সেলোনা থেকে ভাগিয়ে লন্ডন নিয়ে যান। দুজনের জুটিতে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করে চেলসি। এবার রদ্রিকে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাণভোমরা বানাতে চান মরিনহো।
দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরেই মরিনহো একগাদা নতুন খেলোয়াড়ের তালিকা দিয়েছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষকে। এরই মধ্যে রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ কোচের দাবি মতো বার্নার্দো সিলভা, মার্ক কুকুরেয়া, এঞ্জেল ডামফ্রিস, ইব্রাহিম কোনাতের মতো তারকাকে বার্নাব্যুতে নিয়ে এসেছেন। আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দেও নিশ্চিত হয়ে গেছেন। তবে ৬৩ বছর বয়সী অধীর আগ্রহে রদ্রির অপেক্ষায় আছেন।
সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতা রদ্রিকে দলের মস্তিষ্কের দায়িত্ব দিতে চান। মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ ২.০-এর ভিত হিসেবে দাঁড় করাতে চান ৩০ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারকে। রদ্রিকে আরও আগেই দলে ভেড়ানোর কথা ভেবেছিল রিয়াল। কিন্তু পেপ গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্বে থাকায় এতদিন সেটা সম্ভব হয়নি। এবার মরিনহোর চাওয়ার পাশাপাশি গার্দিওলাও সিটির দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে রদ্রিও পরিবারের সবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য নিজ দেশে ফিরতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। সবকিছু মিলে যাওয়ায় পর্তুগিজ এ কোচের অধীনেই রিয়ালে আসছেন তিনি।
রিয়ালে মিডফিল্ডারের কমতি নেই। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, ফেদে ভালভার্দে, আরেলিও চুয়েমেনি, আরদা গুলের মতো একঝাঁক মিডফিল্ডার আছে তাদের। তার পরও রদ্রির অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছেন মরিনহো। রিয়াল এখন প্রাক-মৌসুম সফরে মধ্য ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ায় আছে। সেখানে গত শনিবার তারা ইতালির ক্লাব ফিওরেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল। লড়াইটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল। রিয়ালের পক্ষে গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার এন্দ্রিক ও অ্যালেক্স চিরিয়া। ম্যাচের ২৪ মিনিটেই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু এ লিড ধরে রাখতে পারেনি স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এজন্য কোচ মিডফিল্ডের দুবর্লতাকেই দায়ী করছেন।
রদ্রির মতো অভিজ্ঞ একজন থাকলে, সেটা হতো না বলেই বিশ্বাস কোচের। টনি ক্রুস রিয়ালে যে দায়িত্বটা পালন করতেন, ঠিক সে ভারটাই রদ্রির কাঁধে দিতে চান মরিনহো। যদিও এ প্রস্তুতি ম্যাচে রিয়ালের সেন্টার-ব্যাক দুজন ছিলেন একেবারেই নবীন ও অনভিজ্ঞ। এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়া থেকে আসা হুয়ান মার্তিনেজের বয়স মাত্র ১৮। কাস্তিয়া থেকে আসা আরেক সেন্টার-ব্যাক মারিও রিভাসের বয়সও মাত্র ১৯। অ্যান্টিনিও রুডিগার, এদার মিলিতাও, ডিন হুইসেন, রাউল আসেন্সিওদের কেউই এ ম্যাচে ছিলেন না।
এ জাতীয় আরো খবর..