পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকে বদলাচ্ছে নির্মাণখাত, বাড়ছে জনপ্রিয়তা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৩, | ১৯:১৩:৪৭ |

কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে পোড়া ইট তৈরির প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বাগেরহাটে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক। টেকসই, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় গ্রামীণ সড়ক, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, মসজিদ, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ইউনি ব্লক, হলো ব্লক, সলিড ব্লক, এএসি ব্লক, ডিজাইন ব্লক, পেভিং ব্লক ও ইকো-ব্রিকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

জেলার বিভিন্ন উদ্যোক্তার কারখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার কংক্রিট ব্লক উৎপাদিত হচ্ছে। ফ্লাই অ্যাশ (কয়লার ছাই), পাথরের খোয়া, মোটা বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণে তৈরি এসব ব্লক বর্তমানে পোড়া ইটের কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) বাগেরহাটে ২৪ জন উদ্যোক্তাকে পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এসব উদ্যোক্তার উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করে কম খরচে টেকসই নির্মাণকাজ করা হচ্ছে, যা মানুষের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার তেলিপুকুর এলাকায় কোডেক ও পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে একটি পরিবেশবান্ধব আদর্শ মসজিদ। কংক্রিট হলো ব্লক, সলিড ব্লক, স্টার ব্লক ও ইউনি পেভার দিয়ে নির্মিত এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

এছাড়া কংক্রিট ইউনি ব্লক দিয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, এসব সড়ক টেকসই, দৃষ্টিনন্দন এবং বর্ষাসহ সব মৌসুমে চলাচলের জন্য উপযোগী।

কংক্রিট ব্লক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন বলেন, “বাগেরহাটে ২৪ জন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনে সক্ষম করা হয়েছে। বর্তমানে এসব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে কাজ চলছে। এতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত হচ্ছে।”

কোডেকের পরিচালক স্থপতি কাজী ওয়াফিক আলম বলেন, “পোড়া ইট তৈরিতে কৃষিজমির উর্বর মাটি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি ইটভাটা থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে কংক্রিট ব্লক পোড়া ইটের কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।”

তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাগেরহাটে কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করে পাঁচটি আবাসিক ভবন, একটি লাইব্রেরি, একটি মডেল মসজিদ এবং ৮৫০ মিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রায় ৮ হাজার ইটভাটার মধ্যে প্রায় ৫ হাজারই অবৈধ। পরিবেশ সুরক্ষায় চলতি বছর থেকে কোনো ইটভাটায় কাঠ পোড়াতে দেওয়া হবে না। সরকার ধাপে ধাপে পোড়া ইটের পরিবর্তে কংক্রিট ব্লকসহ পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে কংক্রিট ব্লক নির্মাণ খাতে ৩০ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি সাধারণ মানুষকে বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লক ব্যবহারের আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..