সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে এমআই লন্ডনের জয়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৩, | ১৩:৫৬:৫১ |

উইল জ্যাকস ও নিকোলাস পুরানের অর্ধশতকের সুবাদে ‘দ্য ওভাল’-এ ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ৪৫ রানের বড় জয় পেয়েছে এমআই লন্ডন। এই ম্যাচে প্রথম বোলার হিসেবে পুরুষদের ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্ট পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান।

এদিন প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে এমআই লন্ডন। যা এই টুর্নামেন্টে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এরপর রশিদের ১৭ রানে ৫ উইকেট শিকারের তারা সুপার জায়ান্টসকে ১৩৮ রানে আটকে ফেলে। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি।

রান তাড়া করতে নেমে সুপার জায়ান্টস দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে। উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ বলে ৫৯ রান যোগ করেন দুই ওপেনার। শুরুর জুটিতে দলের হয়ে সর্বাধিক রান করা এইডেন মার্করাম ২৫ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন, তবে রশিদের আঘাত সুপার জায়ান্টসের জয়ের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দেয়। আফগান লেগ-স্পিনার রশিদ টিম সেইফার্টকে বোল্ড করেন এরপর জস বাটলারের উইকেটটিও তুলে নেন। ডিপ মিড-উইকেট বাউন্ডারির ​​কাছে চমৎকার ক্যাচ নিয়ে বাটলারকে ফেরানো নাথান সাউটার এরপর মার্করামকেও আউট করেন। ফলে সুপার জায়ান্টসের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৭৪ রান।

লিউস ডু প্লয় ও হেনরিখ ক্লাসেন ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন এবং দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করান। কিন্তু রশিদের বলে ছক্কা হাঁকানো ক্লাসেন এরপর স্যাম কারানের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হয়ে যান। একই স্পেলে টম মুরসও বিদায় নেন এবং এরপর লিয়াম ডসনও আউট হলে সুপার জায়ান্টসের স্কোর ৬ উইকেটে ১০৯ রানে নেমে আসে। যার মধ্যে পাঁচটি উইকেটই ছিল রশিদের দখলে। এরপর পেসাররা বাকি কাজটুকু সারেন; টম কারান দুটি এবং রিচার্ড গ্লিসন ও ট্রেন্ট বোল্ট একটি করে উইকেট নিলে ৯৫ বলেই সুপার জায়ান্টসের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। 

এর আগে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে জ্যাকস এমআই লন্ডনকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন। অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দেন জেমস ভিন্স; উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৪২ বলে ৭১ রান যোগ করেন তারা। ডসন ভিন্স আউট হলে ক্রিজে আসেন পুরান। তিনি দ্রুতই ছন্দ খুঁজে পান এবং ওই স্পিনারের বলে একটি ছক্কা ও একটি চার মারেন। এরপর নূর আহমেদের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জ্যাকস ২৮ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। এরপর আরও একটি ছক্কা ও একটি চার মারলেও শেষ পর্যন্ত বাঁ-হাতি রিস্ট-স্পিনারের বলেই আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

৭০ বলে ২ উইকেটে ১২১ রান তুলে এমআই লন্ডন বড় সংগ্রহের পথে ভালো অবস্থানে ছিল। শেষ পাঁচ ওভারে তারা ৩০ বলে তারা আরও ৬২ রান যোগ করে। স্যাম কারান গাস অ্যাটকিনসনের বলে দুটি ছক্কা হাঁকান, এরপর পুরান সনি বেকারের বলে একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। নূর স্যাম কারানকে (১১ বলে দ্রুতগতির ২৩ রান) আউট করলেও পুরান দলের রানের গতি ধরে রাখেন। তিনি অ্যাটকিনসনের বলে পরপর কয়েকটি ডেলিভারিতে দুটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ২৫ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন।

১০ বল বাকি থাকতেই ১৭৪ রানে পৌঁছে যাওয়ায় এমআই লন্ডনের ২০০ রানের লক্ষ্য পার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইনিংসের শেষ ভাগে সুপার জায়ান্টস দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে; তারা মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেয়। জশ টাং ২০ বলে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকারের চমৎকার পরিসংখ্যান নিয়ে নিজের স্পেল শেষ করে। তিনি শেষ সেটে পুরান ও শেরফেন রাদারফোর্ডকে আউট করেন। অন্যদিকে বেকার ইনিংসের শেষ বলে টম কারানকে সাজঘরে ফেরান।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..