পাকিস্তানের ঘূর্ণি সামলে দিনের শেষটা নিজেদের করে নিল উইন্ডিজ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৩, | ১০:৪১:৩৫ |

স্পিননির্ভর দিনে দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের বোলাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিলেন। তবে ব্যাটারদের দৃঢ়তা ও ধৈর্যের সুবাদে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের প্রতিটি ব্যাটারই অন্তত দুই অঙ্কের রান করেছেন এবং কোনো জুটিই দশ রানের আগে ভাঙেনি। ফলে পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণ সামলে দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৩৯ রান। জাস্টিন গ্রিভস অপরাজিত ৬৪ এবং অধিনায়ক রোস্টন চেজ অপরাজিত ৩৬ রানে দিন শেষ করেন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।

ম্যাচের শুরুতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মোহাম্মদ আব্বাসকে একাদশের বাইরে রাখা। সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঝড়ো সূচনায়। তারা মাত্র ৯.৫ ওভারে ৪৯ রান তুলে ফেলে। তবে বৃষ্টির কারণে মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে শেষ বলে মোহাম্মদ আলির শিকার হন ট্যাগেনারিন চন্দরপল, যা পাকিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।

বৃষ্টি শেষে খেলা শুরু হতেই চিত্র বদলে যায়। স্পিনার আলি উসমান ও সাজিদ খান একসঙ্গে আক্রমণে এসে এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন যে রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। টার্ন ও বাউন্স পাওয়া উইকেটে প্রথম সাফল্য আসে উসমানের হাতে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্র্যান্ডন কিংকে তিনি পায়ে আঘাত করে আউট করেছেন। এটাই ছিল উসমানের অভিষেক টেস্টের প্রথম উইকেট।

এরপরও দুই স্পিনারের চাপে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাভেম হজ সতর্ক ব্যাটিং করলেও একটি সুইপ খেলতে গিয়ে গ্লাভসে লেগে বল উইকেটরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। আবারও পর্যালোচনায় সফল হয় পাকিস্তান।

এরপর শাই হোপ ও আমির জানগু বুঝতে পারেন, শুধু রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করলে চলবে না। হোপের দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় পাল্টা আক্রমণের সূচনা হয়। রান বাড়তে থাকায় অধিনায়ক বাবর আজম আবার পেস আক্রমণে ফেরান উবায়েদ শাহকে।

কিন্তু নিজের প্রথম ওভারেই উবায়েদের লেগ সাইডের বলে অসাবধানী শট খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন জানগু। টেস্ট অভিষেকে এটিই ছিল উবায়েদের প্রথম উইকেট।

তবে সেই ধাক্কায় থেমে যায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উবায়েদকে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপে ফেলে দেন জাস্টিন গ্রিভস। পরে মোহাম্মদ আলিও খরুচে বোলিং করেন। গ্রিভস কভার অঞ্চলে চমৎকার সব শটে দ্রুত রান তুলতে থাকেন এবং পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়ে দলকে আরও মজবুত অবস্থানে নিয়ে যান।

চা বিরতির পর পাকিস্তান আবারও সুযোগ পায়। মোহাম্মদ আলির বলে নিজের স্টাম্পে বল লাগিয়ে আউট হন শাই হোপ। এতে নিম্নক্রমে দ্রুত ধস নামানোর আশা জাগে সফরকারীদের।

কিন্তু অধিনায়ক রোস্টন চেজ উইকেটে নেমে গ্রিভসকে দারুণ সঙ্গ দেন। দুজন ধৈর্যের সঙ্গে ব্যাটিং করে পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের ধার অনেকটাই ভোঁতা করে দেন। পরিস্থিতি সহজ হয়ে আসায় স্পিনারদের হুমকিও কমে যায়।

শেষ দিকে আবারও পেস আক্রমণে ফেরেন বাবর আজম। কিন্তু উবায়েদ শাহের কঠিন অভিষেক আরও কঠিন হয়ে ওঠে। প্রথম বলেই অতিরিক্ত ফুল লেংথের সুযোগ নিয়ে কভারের ওপর দিয়ে চার মারেন গ্রিভস। গতি কমে যাওয়ায় উবায়েদের স্পেল মাত্র দুই ওভারেই শেষ হয়, আর তাতেই খরচ হয় আরও ১৫ রান।

শেষ পর্যন্ত আলো স্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল স্পষ্টতই স্বস্তিতে। কঠিন সময় সফলভাবে পার করে তারা শক্ত ভিত গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য নতুন পরিকল্পনা নিয়ে পরের দিনে ফেরাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ৫ উইকেটে ২৩৯ রান।

জাস্টিন গ্রিভস অপরাজিত ৬৪, ব্র্যান্ডন কিং ৪৬, রোস্টন চেজ অপরাজিত ৩৬।

পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আলি নেন ২ উইকেট।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..