✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৬, | ২২:৪৩:০৫ |নতুন মৌসুম শুরুর আগেই ইউরোপের সবচেয়ে ব্যস্ত ট্রান্সফার বাজারে পরিণত হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। একের পর এক বড় অঙ্কের দলবদলে ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে ইংল্যান্ডের ট্রান্সফার রেকর্ড। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়া এবং মরগান রজার্সের চেলসিতে পাড়ি দেওয়া সবচেয়ে আলোচিত দুই চুক্তির মধ্যে অন্যতম। তবে বড় বড় সাইনিংয়ের পরও প্রায় প্রতিটি ক্লাবই এখনও স্কোয়াডে নতুন মুখ যোগ করার পরিকল্পনা করছে।
চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল এবার আর স্ট্রাইকার খুঁজতে ব্যস্ত নয়। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের বিদায়ের লেফট উইং শক্তিশালী করতে ক্লাব ব্রুজ থেকে ক্রিস্টোস জোলিসকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। তবে উইলিয়াম সালিবার চোটের কারণে নতুন একজন ডিফেন্ডার এবং মিডফিল্ডার অ্যালেক্স স্কটকে দলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে গানার্সরা।
অ্যাস্টন ভিলার দলবদলও বেশ জমজমাট। মরগান রজার্সকে বিক্রি করার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আলেহান্দ্রো গারনাচোকে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দল ছাড়লে নতুন গোলকিপার, একজন স্ট্রাইকার এবং একজন লেফটব্যাকও প্রয়োজন হবে উনাই এমেরির দলের।
বোর্নমাউথের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অ্যালেক্স স্কটকে ঘিরে। আর্সেনাল, চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগ্রহের কারণে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পাশাপাশি ইউরোপা লিগে খেলার কথা মাথায় রেখে ডিফেন্স ও রাইট-ব্যাক পজিশনে শক্তি বাড়াতে চায় ক্লাবটি।
ব্রেন্টফোর্ড এবার অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়েছে। জায়ডন অ্যান্থনি, ক্যালাম উইলসন এবং ইয়ানিক শুস্টারকে দলে টানলেও তরুণ প্রতিভা খোঁজার নীতি থেকে সরে আসেনি তারা।
ব্রাইটন ইতোমধ্যে ডিফেন্সে একাধিক সাইনিং করেছে। এখন তাদের লক্ষ্য মিডফিল্ড ও উইং শক্তিশালী করা। রোমা থেকে ফিরে আসা ইভান ফার্গুসনের ভবিষ্যৎও এখনও নিশ্চিত নয়। গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন দল ছাড়লে নতুন একজন প্রথম পছন্দের গোলকিপারও খুঁজতে হবে।
চেলসি এবার সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে মরগান রজার্সকে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভিড়িয়ে। তবে মার্ক কুকুরেয়ার বিদায়ের পর লেফট-ব্যাক, নতুন একজন সেন্টার-ব্যাক এবং একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার এখনও প্রয়োজন এনজো মারেস্কার দলের। পাশাপাশি এনজো ফার্নান্দেজের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।
এভারটন তরুণ খেলোয়াড়দের দলে আনলেও ডেভিড ময়েস এখনও একজন রাইট-ব্যাক, স্ট্রাইকার, মিডফিল্ডার ও উইঙ্গার খুঁজছেন। জ্যাক গ্রিলিশের ফেরার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
ফুলহ্যামের নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। হ্যারি উইলসন ও রাউল হিমেনেজের বিদায়ের পর একজন স্ট্রাইকার, উইঙ্গার এবং সেন্টার-ব্যাক খুঁজছে ক্লাবটি।
লিডস ইউনাইটেড গোলরক্ষক সংকটে পড়েছে। কার্ল ডার্লো ও ইলান মেসলিয়ের বিদায়ের পর নতুন গোলকিপার তাদের প্রথম লক্ষ্য। পাশাপাশি মিডফিল্ড শক্তিশালী করতেও চেষ্টা চালাচ্ছে ক্লাবটি।
লিভারপুলে কোচ পরিবর্তন হলেও দলবদলের অগ্রাধিকার বদলায়নি। নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলা উইঙ্গার, রাইট-ব্যাক এবং ডিফেন্সে আরও গভীরতা চান। মোহাম্মদ সালাহ, ইব্রাহিমা কোনাতে ও অ্যান্ডি রবার্টসনের বিদায়ের পর স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন এসেছে।
ম্যানচেস্টার সিটি ব্রিটিশ রেকর্ড গড়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নিলেও আরও একজন মিডফিল্ডার, রাইট-ব্যাক এবং প্রয়োজনে স্ট্রাইকার খুঁজছে। একই সঙ্গে রদ্রির নতুন চুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। জ্যাক গ্রিলিশ, কালভিন ফিলিপস ও সাভিনিওদের ভবিষ্যৎও ঝুলে আছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইতোমধ্যে আন্দ্রে সান্তোস ও ইউরি টিলেমান্সকে দলে নিয়েছে। তবুও আরও একজন মিডফিল্ডার এবং একজন লেফট-ব্যাক চান কোচ মাইকেল ক্যারিক। অন্যদিকে মার্কাস রাশফোর্ডকে ঘিরে ট্রান্সফারের গুঞ্জনও থামছে না।
নিউক্যাসলের সবচেয়ে বড় চিন্তা ব্রুনো গিমারাইশকে ধরে রাখা। অ্যান্থনি গর্ডন ও সান্দ্রো তোনালিকে হারানোর পর মিডফিল্ড ও গোলরক্ষক পজিশনে নতুন মুখ খুঁজছে এডি হাওয়ের দল।
নটিংহাম ফরেস্ট এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে নতুন মিডফিল্ডার, স্ট্রাইকার ও রাইট উইং-ব্যাক আনতে চায়।
সান্ডারল্যান্ড প্রিমিয়ার লিগ ও ইউরোপা লিগ দুই প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে অন্তত ছয় থেকে সাতজন নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা করছে। গ্রানিত জাকার থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের বড় স্বস্তি দিয়েছে।
টটেনহামও এখনও দলবদলের বাজারে সক্রিয়। সান্দ্রো তোনালি, মাতেউস ফার্নান্দেস ও ইয়ান পল ফন হেকেকে দলে নিলেও নতুন একজন স্ট্রাইকার এবং উইঙ্গার খুঁজছে তারা। মার্কাস রাশফোর্ডকে নিয়েও আগ্রহ রয়েছে স্পার্সের।