✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৫, | ০০:২৬:৫১ |৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপ শেষ না হতেই আবারও বিশ্বকাপ আরও বড় করার আলোচনা শুরু হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শুধু টুর্নামেন্টের আকারই নয়, বিশ্ব ফুটবলের অর্থনৈতিক কাঠামোও বড় পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেয় এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। তবে একই কাঠামো বজায় রেখে যদি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়, তাহলে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হবে ১২৮। অর্থাৎ আরও ২৪টি ম্যাচ যোগ হবে এবং পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিশ্বকাপ অন্তত আরও এক সপ্তাহ দীর্ঘ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দল বাড়লে আরও বেশি স্টেডিয়াম, হোটেল, পরিবহন ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ মাঠ ও স্বেচ্ছাসেবকের প্রয়োজন হবে। ফলে আয়োজক দেশের ওপর অবকাঠামোগত চাপও অনেক বেড়ে যাবে।
তবে অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। দল সংখ্যা বেড়ে গেলে বড় বড় দেশের জন্য বিশ্বকাপে ওঠা সহজ হবে। এতে বাছাইপর্বের গুরুত্ব ও বাণিজ্যিক মূল্য কমে যেতে পারে। সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পন্সরশিপ থেকেও আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাগুলোর আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তারা আরও বেশি ফিফার আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে, যা বিশ্ব ফুটবলে ফিফার প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনার বিরোধিতাও রয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার চেফেরিন আগেই বলেছেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ভালো ধারণা নয়। এতে বিশ্বকাপের পাশাপাশি বাছাইপর্বের গুরুত্বও কমে যাবে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে ইনফান্তিনোর যুক্তি, বিশ্বকাপ শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য। ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিলে তারা আরও উন্নতির অনুপ্রেরণা পাবে।
২০৩০ সালের বিশ্বকাপ হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে। আর ২০৩৪ সালে একক আয়োজক সৌদি আরব। তবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে সৌদি আরবের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে। কারণ তখন আরও বেশি স্টেডিয়াম, হোটেল ও পরিবহন সুবিধার প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালে রমজান মাসের সময়সূচির কারণেও বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্যালেন্ডার নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া বিশ্বকাপের সময় ও ম্যাচ সংখ্যা বাড়লে খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক চাপও বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচি নিয়ে বিভিন্ন ক্লাব ও খেলোয়াড়দের উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘ বিশ্বকাপ দেশীয় লিগগুলোর সূচিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আরও বেশি দেশকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও, এর সঙ্গে যুক্ত হবে অর্থনীতি, অবকাঠামো, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য, প্রতিযোগিতার মান এবং বিশ্বকাপের স্বকীয়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক। ফিফা শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় তার ওপর।