✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৯, | ১৯:০২:১১ |ব্রাসিলিয়ার আপত্তি উপেক্ষা করে ব্রাজিলের কুখ্যাত দুই অপরাধী গোষ্ঠী রেড কমান্ড (সিভি) ও ফার্স্ট ক্যাপিটাল কমান্ড (পিসিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। খবর এএফপির।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিভি এবং পিসিসি ব্রাজিলের সবচেয়ে সহিংস দুটি অপরাধী সংগঠন। তাদের প্রভাব ও অবৈধ নেটওয়ার্ক ব্রাজিলের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিস্তৃত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই গোষ্ঠীর অধীনে হাজার হাজার সদস্য রয়েছে। তারা ব্রাজিলের পুলিশ কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নৃশংস হামলা চালিয়েছে।’
এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তবে আসন্ন নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল নেতা ফ্লাভিও বোলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল এবং ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়ার মতো অপরাধী চক্রগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা শুরু করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী তকমা দেওয়া হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিদ্রোহ দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা পায় মার্কিন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মধ্য-বামপন্থী সরকার পরিচালিত মেক্সিকো ও ব্রাজিল এ ধরনের ঘোষণার বিরোধিতা করলেও ডানপন্থী সরকার পরিচালিত ইকুয়েডর ও হন্ডুরাস যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনের ঘোষিত পদক্ষেপ দুই ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে পিসিসি ও সিভি-কে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে গোষ্ঠীগুলোর নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন।
মার্কো রুবিও জানান, আগামী ৫ জুন থেকে ব্রাজিলের উভয় গোষ্ঠীকেই ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এ ঘোষণার ফলে পিসিসি ও সিভি-কে আল-কায়েদা বা ইসলামিক স্টেটের মতো গোষ্ঠীর সমপর্যায়ের হিসেবে দেখা হবে।
ব্রাজিলের কারাগারগুলোতে পিসিসি ও সিভি’র উত্থানের পর কয়েক দশক ধরে দেশটি তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। ১৯৭০-এর দশকে রিও ডি জেনিরোর কাছে ইলহা গ্রান্দে কারাগারে সিভি’র জন্ম হয়। অন্যদিকে ১৯৯০-এর দশকে সাও পাওলোর নিকটবর্তী একটি কারাগারে গড়ে ওঠে পিসিসি।
তবে ব্রাসিলিয়া সরকার এসব গোষ্ঠীর সহিংসতা স্বীকার করলেও তাদের রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে না।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মাদক ও অপরাধীদের অনুপ্রবেশ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাদের মতে, এসব গোষ্ঠী বিশ্বের ভয়ংকর সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সমতুল্য।