লিথুয়ানিয়ায় ড্রোন অনুপ্রবেশ, নাগরিকদের আশ্রয়স্থলে যাওয়ার নির্দেশ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২০, | ১৮:১৮:৫৬ |

রাজধানী ভিলনিয়াসসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘এয়ার ডেঞ্জার’ বা আকাশঝুঁকি সতর্কতা জারি করেছে ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়া।

দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করে একটি ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঘটলে বুধবার এই সতর্কতা জারি করা হয়।

একই সঙ্গে রাজধানীর বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে যান চলাচল স্থগিত করা হয়। অঞ্চলটিতে ট্রেন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়।

সরকারি নির্দেশনায় দেশটির জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্কুল ও শিশু-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশুদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দিতে বলা হয়েছে।

লিথুয়ানিয়ার সেনাবাহিনী এক বার্তায় নাগরিকদের উদ্দেশে জানায়, “অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন, আপনার কাছের মানুষদের খেয়াল রাখুন এবং পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করুন।”

প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই ঘটনায় রাজধানী ভিলনিয়াসের বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় চালু করা হয়। তবে দেশের কিছু অংশে আকাশ সতর্কতা বহাল ছিল।

পার্লামেন্ট ভবনেও সতর্কতা জারি করা হয়, যেখানে ওই সময় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাওনাস জানান, সামরিক বিমানগুলো ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “ন্যাটো এয়ার পলিসিং মিশন সক্রিয় করা হয়েছে এবং লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় শনাক্ত হওয়া ড্রোনটিকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।”

এর আগের দিন মঙ্গলবার ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় সন্দেহভাজন একটি ড্রোন ভূপাতিত করে বলে জানিয়েছে দেশটি।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাল্টিক অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনীয় সামরিক ড্রোনগুলো রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে, যার কিছু ড্রোন ফিনল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়ার মতো ন্যাটো সদস্য দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

লাটভিয়ার সরকার সম্প্রতি এই ধরনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার কারণে পদত্যাগ করেছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে একটি ড্রোন উড়ে এসে লিথুয়ানিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যদিও এর উৎস নিশ্চিত করা যায়নি।

রুশ প্রেসিডেন্টের দফতরের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বাল্টিক অঞ্চলের আকাশসীমায় ড্রোন চলাচল পরিস্থিতি রুশ সেনাবাহিনী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউক্রেনের দৃঢ় সমর্থক বাল্টিক দেশগুলো এই ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশের জন্য মস্কোকে দায়ী করছে। তাদের মতে, রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার অধিকার রয়েছে ইউক্রেনের। সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..