সর্বশেষ :
ট্রাম্প-শি বৈঠক শেষে ধোঁয়াশা: কে কার কথা মানলেন, কী হলো পর্দার আড়ালে? পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে ছাঁটাইয়ের পথে নওয়াজ-শফিকরা ভারত-চীনে ফিফার ‌‘লোভাতুর’ চোখ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নতুন কম্বিনেশনে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ইরান যুদ্ধের ৭৭ দিন, হঠাৎ কেন নরম হলো বড় শক্তিগুলো ইরানকে আলোচনায় বসার এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার আহ্বান জার্মান চ্যান্সেলরের যুক্তরাষ্ট্রের বহরে নতুন নতুন অস্ত্র, কি বার্তা দিচ্ছে? ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস: কোথায় লুকিয়ে মনিকা ইরান ও হরমুজ ইস্যুতে চীন আগের অবস্থানেই আছে, ট্রাম্পের দাবি সঠিক নয়? ইরান যুদ্ধ ‘বিশ্ব পরমাণু ব্যবস্থা’ই ওলটপালট করে দিয়েছে

ট্রাম্প-শি বৈঠক শেষে ধোঁয়াশা: কে কার কথা মানলেন, কী হলো পর্দার আড়ালে?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৬, | ০০:২২:৩৯ |

দুই দিনের চীন সফর শেষ করে শুক্রবার বেইজিং ত্যাগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক শেষে দুই দেশই ইতিবাচক অগ্রগতির দাবি করলেও, কোন কোন বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ওয়াশিংটন বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তির দাবি করলেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তাইওয়ান ইস্যু ও ইরান যুদ্ধ বন্ধের ওপর।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতি দিলেও আলোচনার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে দুই পক্ষের তথ্যে ব্যাপক গরমিল দেখা গেছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: সফর শেষে ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু ‘অসাধারণ’ ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর কাছ থেকে চীনের ২০০টি বিমান কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে তিনি ফক্স নিউজকে জানান। তবে চীনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি। বোয়িং কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। উল্টো ৫০০ বিমান বিক্রির প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বোয়িং-এর শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে।

ইরান যুদ্ধ ইস্যু: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতাই আলোচনা করেছেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে বেইজিংয়ের বিবৃতিতে এমন কোনো সরাসরি অঙ্গীকারের উল্লেখ নেই। চীন কেবল বলেছে, এই যুদ্ধ ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং এটি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে বন্ধ হওয়া উচিত। এছাড়া হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে ট্রাম্প ঐকমত্যের দাবি করলেও চীন বিষয়টি নিয়ে নীরবতা পালন করছে।

তাইওয়ান ও মাদক চোরাচালান: চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাইওয়ান ইস্যুকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান সমস্যা সঠিকভাবে সমাধান না হলে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিলসহ মাদক চোরাচালান বন্ধে চীনের সহযোগিতা পাওয়ার দাবি করলেও বেইজিংয়ের বিবৃতিতে মাদকের বিষয়ে কোনো শব্দ খরচ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই বৈঠক বিশ্ব রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুই পরাশক্তির মধ্যকার আস্থার সংকট এখনো কাটেনি। বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতির মৌলিক ইস্যুগুলোতে ওয়াশিংটন ও বেইজিং এখনো নিজেদের পুরনো অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

ট্রাম্পের চীন সফর এক নজরে:

  • সময়কাল: দুই দিন (১৪ ও ১৫ মে, ২০২৬)।

  • প্রধান ইস্যু: বাণিজ্য চুক্তি, ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান ও মাদক চোরাচালান।

  • ফলাফল: বাণিজ্যিক সমঝোতার দাবি মার্কিন পক্ষের; কৌশলগত স্থিতিশীলতার ওপর জোর চীনের।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..