✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৬, | ০০:১৯:০৭ |বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা বর্তমানে ভারত-চীনের বিশাল বাজারকে লক্ষ্য করে তাদের কৌশলী অবস্থান জোরালো করছে। ফুটবলের জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পুঁজি করে ফিফা তাদের বিশ্ব আসরগুলোর পরিধি বাড়ানোর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খেলার মান উন্নয়নের চেয়েও ফিফার কাছে এখন ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জনই প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বিপুল জনসংখ্যা এবং চীনের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে ব্যবহার করে তারা ফুটবলের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য বিস্তার করতে চাইছে।
ফিফা বিশ্বকাপের দলের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতার ধরন পরিবর্তনের পেছনে প্রধানত এশীয় অঞ্চলের বিশাল দর্শকগোষ্ঠীকে যুক্ত করার উদ্দেশ্য কাজ করছে। যদি ভারত বা চীনের মতো দেশগুলো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়, তবে সম্প্রচার স্বত্ব এবং বিজ্ঞাপনী আয় বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা অনেক ক্ষেত্রেই ফুটবলের ঐতিহ্য এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সমালোচকদের মতে, অতিরিক্ত ম্যাচ এবং ঠাসা সূচির কারণে ফুটবলাররা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, কিন্তু ফিফা তাদের আয়ের উৎস নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তনের পথে অনড় রয়েছে।
ফুটবল দুনিয়ায় 'লোভ' শব্দটির ব্যবহার ইদানীং বেশ জোরালো হয়েছে। ফিফা যেভাবে ভারত ও চীনের ফুটবল কাঠামোকে উন্নত করার বদলে তাদের বাজার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, তা অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও ফিফা দাবি করছে তারা ফুটবলের বিশ্বায়ন চায়, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তাদের এই বিশ্বায়ন মূলত নির্দিষ্ট কিছু লাভজনক অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। ফুটবলের মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এখন পর্দার পেছনের বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই নান্দনিক খেলার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: ডিডব্লিউ