✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ২২:১৮:০৩ |ইরান ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে চীনের দীর্ঘদিনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে বেইজিং থেকে পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যমে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিবর্তনের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
এশীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো আল মায়াদিনকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন পরিকল্পিতভাবে এমন একটি ধারণা প্রচার করার চেষ্টা করছে যেন তারা বেইজিংকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে রাজি করাতে পেরেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন-চীন আলোচনার পর এই ধরনের প্রচার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সূত্রগুলো বলছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা বা ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আমেরিকার এই বাগাড়ম্বর মূলত প্রকৃত সত্য আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসারের বিরোধী হলেও শান্তিপূর্ণ কাজে ইরানের ইউরেনিয়াম ব্যবহারের অধিকার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণমুক্ত রেখে একে আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে বেইজিং তার অবস্থানে অটল রয়েছে, তবে এই কৌশলগত জলপথের তীরবর্তী দেশ হিসেবে ইরানের সার্বভৌম অধিকারকেও তারা সম্মান জানায়।
জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও ইরান ও হরমুজ প্রণালি চীনের জন্য অপরিহার্য রয়ে গেছে। বেইজিংয়ের মতে, তারা জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল বা গ্যাস কিনলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জ্বালানি সরবরাহ অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা অসম্ভব, কারণ চীনের মোট জ্বালানি চাহিদার ৪৫ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে।
এদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, দুই নেতা একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করতে এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে যোগাযোগ বাড়াতে একমত হয়েছেন। বেইজিং এই আলোচনাকে একটি স্থিতিশীল এবং গঠনমূলক কৌশলগত সম্পর্ক গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে চীন। বেইজিং মনে করে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়া যেমন উচিত হয়নি, তেমনি এটি দীর্ঘস্থায়ী করারও কোনো প্রয়োজন নেই। আলোচনার যে দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তা যেন আর বন্ধ না হয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।