আন্তর্জাতিক বাজারে আলুর আগাম চুক্তি মূল্য বেড়েছে ৭০০ শতাংশ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১২, | ১৯:১৪:৩৫ |
আন্তর্জাতিক বাজারে আলুর দামে নজিরবিহীন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত এক মাসেরও কম সময়ে বিশ্ববাজারে আলুর ফিউচার বা আগাম চুক্তির দাম বেড়েছে ৭০০ শতাংশের বেশি। ইউরোপের দেশগুলোয় আলুর বিশাল উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও দাম বেড়েছে। মূলত যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষি উপকরণের সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খবর ইউরো নিউজ।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল আলুর বেঞ্চমার্ক চুক্তির দাম প্রতি ১০০ কেজিতে ২ ইউরো ১১ সেন্ট থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ ইউরো ৫০ সেন্টে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে প্রায় ৭০৫ শতাংশ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ মূল্যবৃদ্ধি মূলত আর্থিক বাজারের আগাম জল্পনা-কল্পনার ফলাফল। কারণ বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোয় আলুর কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক বেশি।

ইউরোপের অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদনকারী দেশ বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও জার্মানিতে গত কয়েক মৌসুমে চাষীরা ব্যাপক হারে আলুর আবাদ বাড়িয়েছেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলনও হয়েছে প্রচুর। ফলে ইউরোপজুড়ে বর্তমানে আলুর বিশাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। এমনকি নিম্নমানের আলুর স্তূপ সরাতে চাষীদের অনেক ক্ষেত্রে উল্টো অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

এত উদ্বৃত্ত থাকার পরও আর্থিক বাজারে দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে যুদ্ধকালীন ভবিষ্যৎ ঝুঁকি। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে রাসায়নিক সারের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। আলু চাষে প্রচুর পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয়। যুদ্ধের কারণে সার ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং ফলন কমবে, এমন আশঙ্কা থেকেই বিনিয়োগকারীরা এখন চড়া দামে আলুর চুক্তি কিনছেন।

পরিবহন সংকটের বিষয়টিও বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত খনিজ উপাদান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এ নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রচুর মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য খাদ্য ও সার সংকটের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা আলুর ফিউচার বাজারে ভিড় করছেন। তবে খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর এখনই এর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..