রুদ্ধদ্বার বৈঠক: ভীতি ছড়াতে চলচ্চিত্রকে ব্যবহার করছে ন্যাটো

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০৪, | ২২:১৫:২৯ |

ভীতি ছড়ানো আর প্রচারণা চালানোর কাজে এবার হলিউডকে ব্যবহার করছে ন্যাটো! দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন শক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলে চলচ্চিত্র ও টিভি শিল্পকে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধেই এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে নির্মাতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকারদের ‘প্রচারণার হাতিয়ার’ বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে জোটটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটটি ‘ভীতি ছড়ানো’ ও প্রপাগাণ্ডা বা ‘প্রচারণার’ জন্য শিল্পকলাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নির্মাতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকারদের সঙ্গে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে ন্যাটো। লস অ্যাঞ্জেলেস, ব্রাসেলস ও প্যারিসে ইতোমধ্যে তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুধু তাই নয়, আগামী মাসে লন্ডনে ‘রাইটার্স গিল্ড অফ গ্রেট ব্রিটেন’-এর সদস্যদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, এই বৈঠকটি ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইউরোপসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হবে। ন্যাটোর সাইবার ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিষয়ক উপপ্রধান জেমস অ্যাপাথুরাই এতে অংশ নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এসব আলোচনার প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। রাইটার্স গিল্ডের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলের বরাতে বলা হয়েছে, অন্তত তিনটি পৃথক প্রকল্প এসব বৈঠক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ শুরু করছে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে চলচ্চিত্র ও টিভি শিল্পের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইরিশ চিত্রনাট্যকার অ্যালান ও’গরম্যান এই উদ্যোগকে ‘স্পষ্টতই প্রচারণামূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইউরোপজুড়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যেখানে বলা হচ্ছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল, যা ভীতি তৈরির প্রচেষ্টা হতে পারে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আয়ারল্যান্ডে গণমাধ্যম ও সরকারের পক্ষ থেকে ন্যাটোকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অন্য চিত্রনাট্যকাররাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তাদেরকে ‘ন্যাটোর প্রচারণায় অবদান রাখতে’ উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ন্যাটো জোটে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বিভেদ লক্ষ্য করা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক সদস্যরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে এ পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ বলে আখ্যা দেন। এর আগে গ্রিনল্যান্ডকে সংযুক্ত করার ট্রাম্পের হুমকির কারণে ইউরোপীয় ন্যাটো দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক গত শনিবার একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। যার মাধ্যমে সামরিক জোট ন্যাটোর বর্তমান সংকটের স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে। তার মতে, এই মুহূর্তে জোটটি কোনো বাইরের শত্রু বা বহিঃশক্তির আক্রমণের চেয়েও অনেক বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

সূত্র: আরটি, গার্ডিয়ান

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..