দুই দফায় সমতা টেনে লড়াই জমিয়ে তুলল চেলসি। কিন্তু গোলরক্ষকের মারাত্মক এক ভুলে আরেকবার পিছিয়ে পড়ার পর আর পেরে উঠল না তারা। তিন গোলের ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল পিএসজি।
প্যারিসে বুধবার রাতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৫-২ গোলে জিতেছে লুইস এনরিকের দল। ব্রাডলি বারকোলা স্বাগতিকদের এগিয়ে নেওয়ার পর, সমতা ফেরান মালো গুস্তো। উসমান দেম্বেলের গোলে আবার পিছিয়ে পড়ার পর, সমতা টানেন এন্সো ফের্নান্দেস। ভিতিনিয়ার গোলে পিএসজি তৃতীয়বার এগিয়ে যাওয়ার পর, জোড়া গোল করেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়া। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু থেকে জমে ওঠে লড়াই। দশম মিনিটে এগিয়ে যায় পিএসজি। ডান দিক থেকে ক্রস দেন দেম্বেলে, বক্সে জোয়াও নেভেসের হেড পাসে বাঁ পায়ের শটে ঠিকানা খুঁজে নেন বারকোলা।
পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত, কিন্তু দেম্বেলের জোরাল শট গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়োর্গেনসেনের হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। পরের কয়েক মিনিটে পিএসজির আরও কয়েকটি প্রচেষ্টা ঠেকান তিনি। ২৮তম মিনিটে সমতা ফেরান গুস্তো। এন্সো ফের্নান্দেসের পাস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে জোরাল নিচু শট নেন তিনি, বল গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।
৩৯তম মিনিটে কোল পামারের শট ঠেকান মাতভেই সাফোনোভ এবং সেখান থেকেই আক্রমণে উঠে আবার এগিয়ে যায় পিএসজি। নিজেদের অর্ধ থেকে দিজিরে দুয়ের পাস ধরে এগিয়ে যান দেম্বেলে। বক্সে ঢুকে চেলসি ডিফেন্ডার ওয়েসলি ফোফানাকে কাটিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ব্যালন দ’র জয়ী। সেই স্বস্তি বিরতি থেকে ফিরে বেশিক্ষণ থাকেনি স্বাগতিকদের। ৫৭তম মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ করেন ফের্নান্দেস। বাঁ দিক দিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে পাস দেন পেদ্রো নেতো, আর অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন অরক্ষিত আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
৭৪তম মিনিটে ইয়োর্গেনসেনের হাস্যকর ভুলে ম্যাচে তৃতীয়বার এগিয়ে যায় পিএসজি। সতীর্থের ব্যাক-পাস পেয়ে আরেক সতীর্থের উদ্দেশ্যে দেওয়ার চেষ্টা করেন চেলসি গোলরক্ষক, তার একটু সামনেই থাকা বারকোলা পা বাড়িয়ে আটকে দেন বল, কাভারাৎস্খেলিয়ার পা ঘুরে বল পেয়ে লব শটে গোলরক্ষকের মাথায় ওপর দিয়ে জালে পাঠান ভিতিনিয়া। আবার পিছিয়ে পড়লেও, ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ভালোভাবেই লড়াইয়ে ছিল চেলসি। তবে ৮৬তম মিনিটে দারুণ এক গোলে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে দেন কাভারাৎস্খেলিয়া। উইলিয়াম পাচোর পাস ধরে বক্সের বাইরে জায়গা বানিয়ে ডান পায়ের বুলেট গতির শটে জালে পাঠান জর্জিয়ার ফরোয়ার্ড।
দুয়ের বদলি নামা কাভারাৎস্খেলিয়া যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে চেলসির কফিনে পঞ্চম পেরেক ঠুকে দেন। আশরাফ হাকিমির পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়ে নিচু শট নেন অরক্ষিত এই খেলোয়াড়। বল গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়। আগামী মঙ্গলবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে হবে ফিরতি লেগ। ঘরের মাঠে খেলা হলেও, তিন গোলের ব্যবধান ঘোচানো ভীষণ কঠিন হবে চেলসির জন্য।
বোদা/গ্লিম্টের স্বপ্নযাত্রা চলছেই
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চমক বোদা/গ্লিম্ট নকআউটে এসেও অব্যাহত রেখেছে তাদের স্বপ্নযাত্রা। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ঘরের মাঠে স্পোর্তিং সিপিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নরওয়ের ক্লাবটি।
আসরে টানা পঞ্চম জয় পেল তারা। ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারানোর পর প্লে-অফে ইন্টার মিলানকে দুই লেগেই হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে আসে অখ্যাত ক্লাবটি।