উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় ইতালির একমাত্র ক্লাব হিসেবে টিকে আছে আতালান্তা। ঘরের মাঠে প্রথম লেগে নামার পর তাদের একপ্রকার উড়িয়েই দিলো বায়ার্ন মিউনিখ। বল দখল, সুযোগ তৈরি থেকে শুরু করে গোল– সবদিক থেকেই বাভারিয়ানরা আধিপত্য দেখিয়েছে। ফলে ব্যবধানটাও হয়েছে বেশ বড়, হ্যারি কেইনকে ছাড়াই জিতেছে ৬-১ ব্যবধানে।
আতালান্তার মাঠ জিউইস স্টেডিয়ামে গতকাল (মঙ্গলবার) খেলতে নামে বায়ার্ন মিউনিখ। দুই অর্ধে সমান ৩টি করে গোল হজম করে ৬-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ে মারিও পাসালিচের গোলে আতালান্তা কিছুটা ব্যবধান কমায়। বিপরীতে সফরকারীদের পক্ষে মাইকেল ওলিসে জোড়া এবং জোসিপ স্ট্যানিসিচ, সার্জি গ্যানাব্রি, নিকোলাস জ্যাকসন ও জামাল মুসিয়ালা একটি করে গোল করেন।
স্বাগতিক হয়েও বায়ার্নের কাছে আতালান্তাকে পুরোপুরি তটস্থ হয়ে থাকতে হয়েছে। ম্যাচে তাদের বল পজেশন ৩০ শতাংশেরও কম ছিল। এ ছাড়া ৮টি শট নিয়ে মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইতালিয়ান ক্লাবটি। অন্যদিকে, ২৫ শটের মধ্যে ১৩টি লক্ষ্যে ছিল বায়ার্নের। তারা খেলার শুরু থেকেই আক্রমণের শুরুটা করে। যার সুবাদে মাত্র ২৫ মিনিটের মাঝেই তারা তিন গোলের লিড পেয়ে যায়। শুরুটা করেন জোসিপ স্ট্যানিসিচ, ১২ মিনিটে দূর থেকে গ্যানাব্রির বাড়ানো বল বক্সে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসেই এই ক্রোয়াট ডিফেন্ডার জালে জড়ান।
মিনিট দশেক বাদে স্কোরশিটে নাম তোলেন ওলিসে। ডি-বক্সের লাইনে তিনি আড়াআড়ি শটে গোলটি করেছেন। ২৫ মিনিটে হওয়ার তৃতীয় গোলেও অ্যাসিস্ট করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। তার বাড়ানো বল পেয়ে জার্মান উইঙ্গার গ্যানাব্রি ডি-বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে জালে পাঠান। আতালান্তা আরও গোল হজম করতে পারত বিরতির আগেই। তবে ডি-বক্সের বাইরে থেকে গ্যানাব্রির নেওয়া জোরালো শট বেরিয়ে যায় ক্রসবারে লেগে। এই যাত্রায় বাঁচলেও প্রথমার্ধ শেষে তারা পিছিয়ে পড়ে ৩-০ ব্যবধানে।
বিরতির পরও আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল ভিনসেন্ট কোম্পানির দলের। ৫২ মিনিটে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজ ওয়ান টাচে পাওয়া বল নিয়ে জ্যাকসন কোনাকুনি শট নেন। সেনেগালিজ স্ট্রাইকারের সেই শট ঠেকাতে পারেননি আতালান্তা গোলরক্ষক। ১২ মিনিট পর প্রায় একইভাবে ওলিসে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। আলফনসো ডেভিসের পাস পেয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় কয়েকজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককেও বোকা বানিয়েছেন এই ফরাসি উইঙ্গার। বদলি নামা মুসিয়ালাও গোল পেতে সময় নেননি। ৫ মিনিটের ব্যবধানে জ্যাকসনের পাস পেয়ে দারুণ টোকায় তিনি সেটি জালে ঠেলে দেন।
এরপর উপামেকানোর হেড গোলপোস্টে বাধা পায়। ফলে আর বাড়েনি বায়ার্নের গোলসংখ্যা। তবে আতালান্তার হয়ে ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে পাসালিচ গোল করে স্কোরলাইনে পরিবর্তন আনেন। ৬-১ ব্যবধানে হারের মধ্য দিয়ে শেষ ষোলো থেকে ছিটকে পড়াটা প্রায় নিশ্চিত করে রেখেছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। এরপর ফিরতি লড়াইয়ের জন্য তাদের যেতে হবে বায়ার্নের মাঠে, ম্যাচটি হবে আগামী ১৮ মার্চ।
এ জাতীয় আরো খবর..