সর্বশেষ :
ট্রাম্প-শি বৈঠক শেষে ধোঁয়াশা: কে কার কথা মানলেন, কী হলো পর্দার আড়ালে? পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে ছাঁটাইয়ের পথে নওয়াজ-শফিকরা ভারত-চীনে ফিফার ‌‘লোভাতুর’ চোখ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নতুন কম্বিনেশনে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ইরান যুদ্ধের ৭৭ দিন, হঠাৎ কেন নরম হলো বড় শক্তিগুলো ইরানকে আলোচনায় বসার এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার আহ্বান জার্মান চ্যান্সেলরের যুক্তরাষ্ট্রের বহরে নতুন নতুন অস্ত্র, কি বার্তা দিচ্ছে? ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস: কোথায় লুকিয়ে মনিকা ইরান ও হরমুজ ইস্যুতে চীন আগের অবস্থানেই আছে, ট্রাম্পের দাবি সঠিক নয়? ইরান যুদ্ধ ‘বিশ্ব পরমাণু ব্যবস্থা’ই ওলটপালট করে দিয়েছে

নরওয়ের ক্লাব বোডোর রূপকথা

শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর বোডো/গ্লিমটের খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপন। ছবি-সংগৃহীত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-২৬, | ১৫:৫৪:২২ |
নরওয়ের ছোট্ট একটি শহর বোডো। যেখানে জনসংখ্যা ৪২ হাজারের মতো। মাছ ধরার শহর হিসেবে বিখ্যাত জনগোষ্ঠীকে এক সুতোয় নিয়ে এসেছে বোডো/গ্লিমট নামক একটি ক্লাব। একসময় দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা ক্লাবটি এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলে ঝড় বইয়ে দিয়েছে। ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি, স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হারানো বোডো/গ্লিমট এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফে পরাভূত করেছে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে। 

মঙ্গলবার সান সিরো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইন্টারকে ২-১ গোলে হারিয়ে রূপকথার গল্প লিখে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে উঠেছে নরওয়ের ক্লাবটি। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে এই ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছিল তারা। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২-এ এগিয়ে থেকে বোডো/গ্লিমট ওঠে গেছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ শৃঙ্গে। আর প্লে-অফেই থেমে গেল ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ আসরের বর্তমান রানার্সআপ ইন্টার মিলান।


বোডো শহরের মানুষের জীবনটা কখনোই সাধারণ ছিল না। সেখানে গ্রীষ্মকালে কয়েক সপ্তাহ সূর্য যেমন ডোবে না, তেমনি করে শীতকালে সূর্যের আলো দিনের পর দিন ধরে দেখা যায় না। আর উত্তর নরওয়ের এই শহরেই ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বোডো/গ্লিমট ক্লাবটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া ক্লাবটি কখনোই সেভাবে নাড়া দিতে পারেনি নরওয়ের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে। কয়েক বছর আগেও বোডো/গ্লিমটের ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের গ্যালারি অর্ধেকই ফাঁকা থাকত। চার বছর আগে প্রথমবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাম লেখানোর পরই বদলে যেতে থাকে ক্লাবটির চেহারা। সাম্প্রতিক সাফল্যে নরওয়ের এই ক্লাবটি নতুন বিপ্লব নিয়ে এসেছে। অথচ আর্থিক সংকটের কারণে ২০১০ সালে বোডো/গ্লিমট ক্লাবটি প্রায় দেউলিয়া হতে চলেছিল। মাসের পর মাস বেতন ছাড়াই খেলতেন ফুটবলাররা। স্থানীয় মাছ বিক্রি করে এবং বোতল বিক্রি করে যে টাকা পেত, তা দিয়ে দিত ক্লাব কর্মকর্তাদের হাতে। এভাবেই আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়ায় বোডো/গ্লিমট ক্লাবটি। এখন তো স্বপ্নের ভেলায় ভাসছেন জেন্স পিটার হগ-হ্যাকন এভজেনরা। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারবার নরওয়ের শীর্ষ লিগ এলিতেসরিয়েনের শিরোপা জেতা ক্লাবটিকে নিয়ে আসে ইউরোপিয়ান মঞ্চে। ইউরোপিয়ান কনফারেন্স লিগ এবং ইউরোপা লিগ খেলে আসা বোডো/গ্লিমট এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে বোডো/গ্লিমটের হয়ে দ্বিতীয় গোল করা হ্যাকন এভজেনের বিশ্বাসই হচ্ছিল না তারা কী করেছেন, ‘অসাধারণ এই দলটির দিকে তাকান পরাবাস্তব অনুভূতি, অবিশ্বাস্য রকমের দারুণ। জানি না আসলে কীভাবে কী বলব।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..