সর্বশেষ :
ট্রাম্প-শি বৈঠক শেষে ধোঁয়াশা: কে কার কথা মানলেন, কী হলো পর্দার আড়ালে? পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে ছাঁটাইয়ের পথে নওয়াজ-শফিকরা ভারত-চীনে ফিফার ‌‘লোভাতুর’ চোখ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নতুন কম্বিনেশনে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ইরান যুদ্ধের ৭৭ দিন, হঠাৎ কেন নরম হলো বড় শক্তিগুলো ইরানকে আলোচনায় বসার এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার আহ্বান জার্মান চ্যান্সেলরের যুক্তরাষ্ট্রের বহরে নতুন নতুন অস্ত্র, কি বার্তা দিচ্ছে? ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস: কোথায় লুকিয়ে মনিকা ইরান ও হরমুজ ইস্যুতে চীন আগের অবস্থানেই আছে, ট্রাম্পের দাবি সঠিক নয়? ইরান যুদ্ধ ‘বিশ্ব পরমাণু ব্যবস্থা’ই ওলটপালট করে দিয়েছে

৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন চূড়ান্ত, তিনটি পেল শেষ সুযোগ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-২৮, | ১১:১৬:৩৫ |
অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় ধুঁকতে থাকা ৬টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ দিতে তিন প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে না পারা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতি— এই তিন সূচককে ভিত্তি ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে ৯টি এনবিএফআই চিহ্নিত করা হয়েছিল।

এর মধ্যে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং— এই ছয় প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)— এই তিন প্রতিষ্ঠানকে এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না। আর্থিক অবস্থার উন্নতি প্রমাণ করতে তাদের নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল শাসনের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এর আগে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। সন্তোষজনক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা দিতে না পারায় নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অবসায়নের আগে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে দেওয়া কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করেই তিন প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা বোর্ড অনুমোদন করেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ফলে এসব এনবিএফআই কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়ে। আলোচিত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের তালিকায় থাকা নয়টি রুগ্ন এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন শুরু হবে। মূল্যায়নের পর শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা কেবল তাদের জমা দেওয়া মূল অর্থই পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যায় জর্জরিত ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানত রয়েছে ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের। বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। ব্যক্তি আমানতকারীদের সবচেয়ে বেশি আমানত আটকে পড়েছে পিপলস লিজিংয়ে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া আভিভা ফিন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফিন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে সাধারণ আমানতকারীদের। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই হিসাবে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

দেশের আর্থিক খাতে বর্তমানে মোট ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠানকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে দেশের আর্থিক খাতের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৯ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। খেলাপির এই হার খাতটির বিতরণ করা ঋণের ৩৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

এর আগে প্রান্তিকে অর্থাৎ গত বছরের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণ ছিল ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা ছিল খাতটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। ফলে ৩ মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..