সর্বশেষ :
রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনে ৬ কমিটি প্রবাসী আয়ে সুবাতাস, ৮ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৯১৫ মিলিয়ন ডলার কোন পথে এগোচ্ছে ট্রুডো-কেটি পেরির প্রেম? গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনে যেন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি বিকৃত না হয় : তথ্যমন্ত্রী ব্রেট লির মতে, শচীন সেরা ব্যাটার হলেও সর্বকালের সেরা ক্যালিস মেয়েকে গণধর্ষণ মামলায় মায়ের ১৫ বছরের কারাদণ্ড সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী একজন, বাদ পাঁচ প্যানেল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হলেও নির্ভার রাবাদা বামপন্থার অবসান, ফিরল ডানপন্থী শাসন: কেন দে লা এসপ্রিয়েলার ওপর বাজি ধরলেন ট্রাম্প? দেশ গঠনে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তন: শীত বিদায় নিচ্ছে জানুয়ারিতেই

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-০১-২২, | ১১:০৫:২২ |

জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের আচরণ থেকে কোনোভাবেই বেরোতে পারছে না বিশ্ব। উন্নত দেশগুলো থেকে নির্গত হওয়া গ্রিন হাউস গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। ফলে চলতি মাস থেকেই বিদায় নিতে যাচ্ছে শীত!

এদিকে, অন্যবারের তুলনায় এবার সেভাবে শৈত্যপ্রবাহও দেখা যায়নি। প্রতিবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশের মানুষ নাস্তানাবুদ হলেও এবার তা লক্ষ্য করা যায়নি। একবারের জন্যও এবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েনি দেশের মানুষ।

এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, আগামী কয়েকদিন শীত কম থাকবে। এরপর আবারও বাড়বে। মাসের শেষ দিকে শীত এলেও দুই থেকে তিনদিন থেকে আবার কমতে শুরু করবে। এই ধাক্কার শীতে শৈত্যপ্রবাহের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। কয়েকটা জেলায় শৈত্যপ্রবাহ হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।

শাহনাজ সুলতানা বলেন, জানুয়ারির পর থেকেই আস্তে আস্তে শীত বিদায় নেবে। একমোসটোরি রিভার বর্তমানে বাংলাদেশের ওপরে বিদ্যমান আছে। এটা দেশের উত্তরাঞ্চলে থাকলে শীতের প্রকোপটা একটু কম থাকে। এজন্যই এবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহও হয়নি, আবার মাঝারি শৈত্যপ্রবাহও সেভাবে লক্ষ্য করা যায়নি।

শীত কম পড়ার কারণ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) প্রধান আবহাওয়া গবেষক খালিদ হোসেন বলেন, এই বছরটা গেছে নিউট্রাল টু লানিনা এয়ারের দিকে। সাধারণত লানিনা এয়ারের মধ্যে থাকলে শীত কম পড়ে। শীতকালে বাতাস ভূমি থেকে সাগরের দিকে যায়। কিন্তু ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্বেন্স এর কারণে ভূমি থেকে সাগরে বাতাস যাওয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে শীতকাল হওয়াটাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া কুয়াশা বেল্টের কারণেও শীত কম পড়েছে। তবে আগামী ২৭ জানুয়ারি আবারও একটা শৈত্য প্রবাহ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। অর্থাৎ জানুয়ারি পর্যন্ত শীত থাকবে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই আস্তে আস্তে গরমের দিকে যাবে। বিশেষ করে আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরোদমে গরম পড়া শুরু করবে। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিন গরম গরম অনুভূত হলেও ভোর রাতের দিকে শীত অনুভূত হবে।

পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এবার শীত কম পড়েছে। আগে বাতাসের যে স্বাভাবিক গতিবিধি ছিল, যেমন শীতের সময় উত্তর দিকে থেকে আসতো, বর্ষার সময় দক্ষিণ দিকে যেত। কখন কোন দিকে যাবে, সেটা নির্দিষ্ট করে বলা যেত। এখন থেকে দিনে দিনে ভবিষ্যতটা আরও অনিশ্চিত হবে।

আইনুন নিশাত বলেন, মাঘ মাসেও শীতের তেমন দেখা নাই। কিন্তু এবারের শীত এখনই পার হয়ে যেতে পারে আবার ১০ দিন পর তীব্র শীত পড়লো। এই অনিশ্চয়তা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে। বাতাসের মুভমেন্টা বদলে যাচ্ছে। বাতাসের মুভমেন্ট বদলে গেলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও সময় বদলে যাবে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় আছে কিনা এমন প্রশ্নে আইনুন নিশাত বলেন, এখান থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নেই। পৃথিবীর গ্রিন হাউস গ্যাস উৎপাদন কমতে হবে। আর এই গ্রিন হাউস গ্যাস কমানোর মূল দায়িত্ব হচ্ছে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর। বিশ্ব যদি এইটা সিরিয়াসলি না নেয় তাহলে আরও খারাপ অবস্থা হবে।


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..