✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৭, | ০১:২৫:৪৫ |ঢাকায় রাকিব ইসলাম (১৭) নামের এক কিশোরকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ কার্টনে মুড়িয়ে নীলফামারীর ডিমলায় নিয়ে এসে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামুন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ঢাকায় রাকিবের সঙ্গে ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মামুনের পরিচয় হয়। পরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে কার্টনে মুড়িয়ে ঢাকার বাইরে ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে নিয়ে আসেন মামুন। সেখানে একটি স্থানে মরদেহটি মাটিচাপা দিয়ে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে যান।
এরপর রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভিডিও তৈরি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই ভিডিও দেখিয়ে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয় এবং কিছু টাকাও নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পরও রাকিবকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে না পারায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
পরে পুলিশ তদন্তে নেমে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডিমলায় মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত হয়। পরে ঢাকার একটি পুলিশের দল ডিমলায় এসে তার দেখানো স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামুন রাকিবকে হত্যা করে কার্টনে মুড়িয়ে মরদেহ গুম করার জন্য গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে মাটির নিচে মরদেহটি পুঁতে রাখেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডিমলায় এসে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।