✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২১, | ১৩:৪১:৩৩ |বর্ষা এলেই দেশে লাফিয়ে বাড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ঘরে ঘরে তীব্র জ্বর, প্লাটিলেট কমে যাওয়ার ভয় আর হাসপাতালে বেডের হাহাকার। এই চেনা ছবি এবার বদলাতে চলেছে। মশাবাহিত এই মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে যাচ্ছে। ভারতের বাজারে প্রথমবারের মতো আসতে যাচ্ছে ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA)।
জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল'-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে ভারতের ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের বাজারে তাকেদার ডেঙ্গু ভ্যাকসিন ‘কিউডেঙ্গা’ প্রচার ও বিতরণ করা হবে।
‘কিউডেঙ্গা’ কী?
কিউডেঙ্গা হলো জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল'-এর তৈরি একটি ডেঙ্গু টিকা। এটি ডেঙ্গুর চারটি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস স্ট্রেইন থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। টিকাটি ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য উপযোগী। এই টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়—প্রতিটি ডোজ ০.৫ মিলিলিটার। দ্বিতীয় ডোজ প্রথম ডোজের তিন মাস পর দেওয়া হয়। বিশেষ দিক হলো, এই টিকা নেওয়ার আগে আগে কখনও ডেঙ্গু হয়েছিল কি না তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না।
কার্যকারিতা কতটা?
ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাটি ৮০.২ শতাংশ কার্যকর দেখা গেছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ৯০.৪ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে, যা ১৮ মাসের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন সম্ভাবনা:
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভারতে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকার আগমন একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল জানিয়েছে, তারা বিশ্বব্যাপী টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ১০ কোটি ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে ভারতে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতে কখন পাওয়া যাবে?
প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ও বাজারজাতকরণের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৭ সালের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে টিকাটি বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর আগে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও বাজার অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ২০২৭ সালে ভারতের বাজারে ‘কিউডেঙ্গা’ প্রবেশ করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আরও একটি শক্তিশালী স্তর যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ততদিন পর্যন্ত মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ, মশার কামড় এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে