✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৫, | ০১:০০:৪৭ |স্কুলের জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যুৎ ও পানির অভাবসহ নানা সমস্যার সমাধানে ভারতে বিক্ষোভে নেমেছে স্কুলশিক্ষার্থীরা। গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দেশটির অন্তত ১০টি রাজ্যে এমন প্রতিবাদ হয়েছে। জেন জেডের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর এসব বিক্ষোভকে নতুন প্রজন্মের ‘জেন আলফা আন্দোলন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তর প্রদেশের সামুহি ভাটপুরওয়া গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২২ শিক্ষার্থী গত ২২ আগস্ট ক্লাস বর্জন করে নতুন ভবনের দাবিতে বিক্ষোভ করে। স্কুলটির পুরোনো ভবনের একটি অংশ ২০২৩ সালে ধসে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছিল। এরপর থেকেই নতুন ভবনের দাবি জানিয়ে আসছিল শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের পর শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা দীপক আওয়াস্তি সেখানে গিয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যায়।
মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যের স্কুলেও শিক্ষক সংকট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, বেঞ্চ ও অবকাঠামোর দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। বিহারের একটি স্কুলে নিম্নমানের মধ্যাহ্নভোজের প্রতিবাদে প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী চার কিলোমিটার হেঁটে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানায়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী ১৫ লাখ স্কুলে পড়াশোনা করে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখের বেশি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থী এসব স্কুলে পড়াশোনা করে।
এর আগে পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে জেন জেডের বড় আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার স্কুলের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে সরব হয়েছে ছোট শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও স্কুল সংস্কারের দাবিতে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি শুরু করেছে।
শিক্ষা অধিকারকর্মীদের মতে, শিশুদের দাবির মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত শিক্ষক, নিরাপদ ভবন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচাগার ও মানসম্মত শিক্ষা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সমস্যা সমাধানে শুধু বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
ভারতের ৩০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ফলে বর্তমান স্কুলশিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ভোটার হবে। তাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ভবিষ্যতের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: আল জাজিরা