দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল এখন ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। আগের নির্ধারিত দাম ১৯৯ টাকা হওয়ায় ভোক্তাদের এখন প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেশি খরচ করতে হবে। তবে পাম অয়েলের দাম আগের মতোই রাখা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বিদ্যমান মূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও এর কাঁচামালের দামের ওঠানামার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে নতুন করে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দর কার্যকর হলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের জন্য ভোক্তাকে দিতে হবে ২০৪ টাকা। এর আগে এই তেলের নির্ধারিত মূল্য ছিল ১৯৯ টাকা। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও বাড়ল দেশের অন্যতম প্রধান নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম।
এর আগে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার আগে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতো ১৯৫ টাকায়।
ওই সময় মূল্য সমন্বয়ের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বাড়ার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ ভোজ্যতেলের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন বা সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে দেশের আমদানি খরচে।
বিশ্ববাজারের মূল্য পরিস্থিতির পাশাপাশি ডলারমূল্য, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য আমদানি-সংশ্লিষ্ট খরচও ভোজ্যতেলের বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে স্থানীয় বাজারেও তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবারও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সয়াবিন তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আরও এক ধাপ বাড়ল।
সয়াবিন তেল দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত হয়। তাই দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের খাদ্য ব্যয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজার খরচে এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে।
অন্যদিকে, একই বৈঠকে পাম অয়েলের দাম পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে সয়াবিন তেলের নতুন দর কার্যকর হলেও পাম অয়েল আগের মূল্যেই বাজারে বিক্রি হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..