এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

সবজির দামে স্বস্তি, চড়া ডিম-মুরগির বাজার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৪, | ১৬:৩৭:৪১ |

নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র অনুভূতি দেখা গেছে। সরবরাহ বাড়ায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রোটিনের প্রধান উৎস ডিম ও মুরগির বাজার এখনো চড়া রয়েছে। তবে প্রতিটি ডিম খুচরা কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৪ টাকা। এক ডজন ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ১৬৫ টাকা। শুধু ডিম নয়, অধিকাংশ সবজির দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। তবে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

আজ শুক্রবার রাজধানীর খিলক্ষেত কাপ্তান বাজার, রায়সাহেব বাজার, বাবু বাজার ও কাওরান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাজারে সবচেয়ে কম দামে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপের দাম ৩০ টাকা। এ ছাড়া পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা এবং লাউ ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে।

তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনো বেশ চড়া। বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছে শিম। বাজারভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। সরবরাহ বাড়ায় কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে নতুন করে বাড়ছে ব্যয়ের চাপ। তবে সবজি ও মসলার বাজার নিয়ে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তিতে ক্রেতারা।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ-মাংসের বাজারে সেই স্বস্তির ছাপ নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেড়েছে ডিমের দাম। প্রতিটি ডিম খুচরা কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৪ টাকা। এক ডজন ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ১৬৫ টাকা।

মাছের বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাইজ অনুযায়ী ১২০০ থেকে ২৪০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গুণতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, মাছের আকার, জীবিত বা মৃত এবং বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে মাছের বাজারে দাম বাড়তির দিকেই রয়েছে। তারা বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..