✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৪, | ১২:৪৯:৩৪ |ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জন্য শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা এখনো রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তার মতে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার কারণে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলীয় ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে পুতিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়া–ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে আগ্রহী। তবে শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধের সমাধান দুই পক্ষ—রাশিয়া ও ইউক্রেনকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বের করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুতিন বলেন, ‘শান্তির সম্ভাবনা আছে কি? আমার মতে, হ্যাঁ, অবশ্যই আছে।’
তবে ইউক্রেনের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং বেসামরিক উড়োজাহাজে হামলার হুমকির অভিযোগ তুলে পুতিন বলেন, এসব কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শান্তি
আলোচনা আরও কঠিন করে তুলছে। তিনি ইউক্রেনের এসব কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেন।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার আকাশসীমায় ইউক্রেনীয় ড্রোনের উপস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলে উড়োজাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের লক্ষ্য রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা; বেসামরিক উড়োজাহাজকে হুমকি দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়।
বুধবার ইউক্রেন জাতিসংঘের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার কাছে রাশিয়ার আকাশসীমায় বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানোর অনুরোধ করেছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর নিরাপত্তার কারণে ইউক্রেনের নিজস্ব আকাশসীমাতেও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা মার্কিন প্রতিনিধিরা শিগগিরই মস্কো ও কিয়েভ সফর করতে পারেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা শান্তি প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। সমুদ্রপথেও দুই পক্ষের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়েছে। ফলে শান্তির বিষয়ে পুতিন ইতিবাচক মন্তব্য করলেও দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর বাস্তব সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: রয়টার্স