বিপর্যস্ত নেপাল: রংপুরে উদ্বিগ্ন নেপালি শিক্ষার্থীরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৭, | ১৮:২৫:৫২ |

নেপালে হিমালয়ের বানের জলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রংপুরে লেখাপড়া করতে আসা নেপালি শিক্ষার্থীরা। নেপালের এই দুর্যোগের সময়ে বাংলাদেশে থেকেও তারা দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছেন। নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে তা নেপালে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

অপরদিকে, হিমালয়ের পার্বত্য নদী থেকে আসা বানের পানি রংপুরের তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবেশের সম্ভাবনা নেই। তবে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে বানের পানি প্রবেশ করতে পারে। এতে বড় ধরনের ভয়াবহতার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা গেছে, হিমালয় পর্বতমালায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল। গত বুধবার হিমালয়ের পার্বত্য নদী থেকে আসা প্রলয়ংকরী হড়কা বান এবং কাদা ও পাথরের ধসে বহু গ্রাম ও পাহাড়ি নগরী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকশ মানুষ। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০০ মিলিয়নের বেশি রুপি বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় বসে নেই নেপাল থেকে রংপুরে ডাক্তার হতে আসা দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ, কমিউনিটি ডেন্টাল কলেজ ও প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অধ্যয়ন করছেন নেপালের এসব শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে।

রংপুর কমিউনিটি ডেন্টাল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সুজা সেরপি জানান, তার বাড়ি কাঠমান্ডুতে। দেশের এই দুর্যোগের জন্য খুব খারাপ লাগছে। দেশের বিপদের সময় কিছু করতে পারছেন না বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

সুজা সেরপি বলেন, ‘রংপুরে আমরা দুইশর বেশি নেপালি শিক্ষার্থী রয়েছি। আজ সন্ধ্যায় (বৃহস্পতিবার) আমরা সবাই একসঙ্গে বসব। সবাই মিলে কিছু অর্থ সংগ্রহ করব। সেই অর্থ নেপাল সরকারের কাছে পাঠাব।’

একই প্রতিষ্ঠানের একই বর্ষের শিক্ষার্থী অইয়ষ বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশের জন্য খুব খারাপ লাগছে। দেশের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগত। আমরা নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করছি। তা নেপাল সরকারকে পাঠাব।’

প্রায় একই ধরনের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন অভিনাষসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্বেগের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, হিমালয়ের বানের পানি তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে আসার সম্ভাবনা নেই। তবে বানের পানি পদ্মা নদীতে প্রবেশ করতে পারে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..