✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২১, | ০২:১২:২১ |নিয়মিত শরীরচর্চা ও ব্যায়াম মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ, শক্তিশালী এবং প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। তবে ব্যায়ামের সময় শরীরের মধ্যে কিছু বিশেষ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়। অনেকেই ব্যায়ামের সময়ে অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা বুক ভারী হয়ে আসাকে বয়স বৃদ্ধি, ফিটনেসের অভাব কিংবা শারীরিক দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসকদের মতে, ব্যায়ামের সময় শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার এ জাতীয় পরিবর্তন হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, যা হালকাভাবে নিলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোর্ড-সার্টিফাইড কার্ডিওভাস্কুলার সার্জন ড. জেরার্ড লন্ডন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যায়াম করার সময় দেখা দেওয়া এমন চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শরীরচর্চার সময় উপসর্গগুলো কীভাবে দেখা দিচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে শারীরিক পরিস্থিতি কতটা গুরুতর।
প্রথমত, শরীরচর্চার সময় বুকে অস্বস্তি, চাপবোধ কিংবা অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হওয়া একটি বড় সতর্কবার্তা। বিশেষ করে ব্যায়াম বা যেকোনো শারীরিক পরিশ্রম শুরু করলে যদি বুকে একধরনের ভার অনুভব হয় এবং বিশ্রাম নিলে তা ধীরে ধীরে কমে যায়, তবে এটিকে কখনোই শুধু শারীরিক ফিটনেসের অভাব বলে চালিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। পরিশ্রমে উপসর্গ বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্রামে তা কমে যাওয়ার এই নির্দিষ্ট ধরনটি হৃদযন্ত্রের কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার দিকে নির্দেশ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ব্যায়াম করার ক্ষমতায় হঠাৎ কোনো পরিবর্তন আসা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করাও উদ্বেগের বিষয়। যে হালকা বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম আপনি কিছুদিন আগেও সহজে সম্পন্ন করতে পারতেন, সেটি করতে গিয়ে যদি হঠাৎ করেই তীব্র শারীরিক ক্লান্তি এসে ভর করে, তবে তা খেয়াল করা জরুরি। বয়সের প্রভাব ধীরে ধীরে পড়ে, কিন্তু রাতারাতি বা খুব অল্প সময়ে কর্মক্ষমতা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া সাধারণ বিষয় নয়।
তৃতীয়ত, ব্যায়ামের পাশাপাশি উভয় পায়ে বা গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যাওয়াও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাসের সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে যদি মোজা খোলার পর পায়ের চামড়ায় গভীর দাগ বসে যায়, তবে বুঝতে হবে শরীরে তরল জমছে। এক পায়ের পেশি ফুলে যাওয়া ও ব্যথা হওয়ার কারণ আলাদা হতে পারে, তবে দুই পায়েই একই সঙ্গে ফোলা ভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চতুর্থত, শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের সময় হঠাৎ মাথা ঝিমঝিম করা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূত হওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল উপসর্গ। ডিহাইড্রেশন বা পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়ার কারণে মাঝে মাঝে মাথা ঘোরাতে পারে, তবে তীব্র ব্যায়ামের সময় এটি হলে এবং তার সঙ্গে বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্ট যুক্ত থাকলে বিষয়টি মোটেও অবহেলা করা যাবে না।
চিকিৎসকদের মতে, এই উপসর্গগুলোর মানেই যে সবার হৃদরোগ হয়েছে তা নয়, এর পেছনে অন্যান্য সাধারণ কারণও থাকতে পারে। তবে মূল বিষয়টি হলো নিজের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে চিনতে পারা। অন্য কারও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে নিজের তুলনা না করে, কয়েক মাস আগের নিজের অবস্থার তুলনায় বর্তমানের যেকোনো নেতিবাচক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়াই স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস