✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২১, | ০২:০৯:২৫ |জীবনে যা কিছু ঘটে গেছে, তা যদি অন্যরকম হতো; এমন প্রত্যাশা কমবেশি সবার মনেই উঁকি দেয়। পাওয়া আর না-পাওয়ার দোলাচালে অতীতকে বদলাতে না পেরে আক্ষেপ করা মানুষের সহজাত অভ্যাস। কিন্তু অতীতের সেসব ঘটনাকে না বদলে যদি জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বরণ করে নেওয়া যায়, তবে কেমন হয়? ঠিক এই দর্শন নিয়েই প্রাচীন ও আধুনিক ভাবনায় সমাদৃত হচ্ছে একটি বিশেষ ল্যাটিন ধারণা, যার নাম ‘আমোর ফাতি’ বা নিয়তিকে ভালোবাসা।
মূলত স্টোয়িক দর্শনের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত এই ভাবনায় বলা হয়, প্রকৃতি ও জীবনের স্বাভাবিক নিয়মকে মেনে নিয়ে বুদ্ধি ও বিবেকের সাথে বাঁচাই শ্রেষ্ঠ পথ। জীবনের যেসব পরিস্থিতি বা পরিণতি মানুষের নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলোকে অযথা অস্বীকার বা লড়াই করার বদলে সেগুলোর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়াই জীবনের মূল সৌন্দর্য। কেবল মেনে নেয়াই শেষ কথা নয়; ‘আমোর ফাতি’ আরও এক ধাপ এগিয়ে শেখায় দুঃখ, কষ্ট কিংবা যেকোনো প্রতিকূলতাকে নিজের জীবনের বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে ভালোবেসে গ্রহণ করতে।
অনেকে এই ধারণাকে প্রাচীন স্টোয়িক দর্শনের অংশ হিসেবে চিনলেও আমোর ফাতি শব্দযুগলকে নতুন করে জনপ্রিয়তা দিয়েছেন জার্মান দার্শনিক ফ্রেডরিক নিটশে। তিনি তার বিভিন্ন রচনায় একে জীবনকে পুরোপুরি লালন ও উদযাপনের এক পরম মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে এই দর্শনের মানে এই নয় যে জীবনের প্রতিটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকেই ভালো বা নিখুঁত হিসেবে ধরে নিতে হবে, কিংবা কষ্টের মুখে নিষ্ক্রিয় বসে থাকতে হবে। বরং এর প্রকৃত অর্থ হলো বাস্তবতাকে তার নিজের জায়গায় মেনে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া।
প্রতিদিনের জীবনে অম্ল-মধুর নানান মুহূর্তের মুখোমুখি হয়ে মানুষ কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তার এক গভীর দিকনির্দেশনা রয়েছে এই দর্শনে। প্রতিকূল অবস্থাকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে তা থেকে শেখার মানসিকতা তৈরি করা, অতীতের ভুলের জন্য অনুশোচনা না করে বর্তমান সময়ে মনোনিবেশ করা এবং ছোট ছোট বিষয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার চর্চা মানুষের ভেতরের মানসিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জীবনের গল্প নিজের মনের মতো না হলেও যা কিছু ঘটছে তাকে নিজের জীবনের প্রয়োজনীয় অধ্যায় মনে করে গ্রহণ করার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃত মানসিক শান্তি। জীবনের কোনো ঘটনাকেই আর শত্রু না ভেবে বন্ধুর মতো গ্রহণ করাই ‘আমোর ফাতি’র আসল শিক্ষা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস