সর্বশেষ :

গলাব্যথা ও সর্দি-কাশিতে আরাম দিতে পারে ৩ ঘরোয়া পানীয়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২১, | ০২:১১:২৭ |

বাতাস ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এ সময়ে শরীরে অস্বস্তি বাড়তে পারে। অনেকের গলাব্যথা, সর্দি-কাশি, শরীর ম্যাজম্যাজ করা বা দুর্বল লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেও কিছুটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও বিশ্রামের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পানীয় শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে এবং গলার অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম দিতে পারে। তবে এসব পানীয় কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়।

সকালে তুলসি-আমলকির পানীয়

দিনের শুরুতে তুলসি, আমলকি ও আদার মিশ্রণে তৈরি পানীয় খেতে পারেন। আমলকিতে ভিটামিন সি রয়েছে। তুলসি ও আদাও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ঘরোয়া পানীয়তে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তৈরির জন্য একটি ব্লেন্ডারে ৪ থেকে ৬টি তুলসীপাতা নিতে হবে। চাইলে কয়েকটি পুদিনাপাতাও দেওয়া যায়। এর সঙ্গে অর্ধেক আমলকি বা এক চা-চামচ লেবুর রস, এক টুকরা আদা বা সামান্য কাঁচা হলুদ দিতে পারেন। সবশেষে এক চিমটি বিট লবণ এবং দেড় কাপ পানি বা ডাবের পানি দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে ছেঁকে পান করা যায়।

সকালে খালি পেটে পান করার পরামর্শ দেওয়া হলেও যাঁদের গ্যাস্ট্রিক বা অম্লতার সমস্যা আছে, তাঁরা খালি পেটে না খেয়ে খাবারের পর পান করতে পারেন।

সন্ধ্যায় হলুদ-দুধ

সন্ধ্যায় গরম দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে তৈরি করা যায় উষ্ণ একটি পানীয়। গরম তরল গলার অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম দিতে পারে। স্বাদ বাড়াতে এতে সামান্য গোলমরিচও যোগ করা যায়।

এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য কাঁচা হলুদ কুচি বা গ্রেট করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর এক চিমটি দারুচিনি গুঁড়া ও গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে হালকা গরম অবস্থায় পান করা যায়। তবে দুধে অ্যালার্জি বা দুধ হজমে সমস্যা থাকলে এই পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।

গলা খুসখুসে হলে আদা-হলুদের পানীয়

গলা খুসখুস বা অস্বস্তি হলে উষ্ণ আদা-হলুদের পানীয় চুমুক দিয়ে খেতে পারেন। এটি আগে থেকেই তৈরি করে রাখা যায়।

এ জন্য আদা, কাঁচা হলুদ ও সামান্য গোলমরিচ ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরপর মিশ্রণটি বরফের ট্রেতে ঢেলে ফ্রিজারে রেখে দিলে ছোট ছোট কিউব তৈরি হবে। গলায় অস্বস্তি হলে একটি কিউব কাপে নিয়ে তার ওপর গরম পানি ঢেলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম অবস্থায় ধীরে ধীরে পান করা যায়।

পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রাম জরুরি

সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার সময় কোনো বিশেষ পানীয় খেলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এ সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ভালো ঘুম ও বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী উষ্ণ তরল পান করলে গলার অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম মিলতে পারে।

তবে কয়েক দিন ধরে জ্বর থাকলে, জ্বরের মাত্রা বেশি হলে, গিলতে খুব কষ্ট হলে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বা দুর্বলতা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে ঘরোয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..