সর্বশেষ :

কোটি কোটি টাকা দিয়েও কেউ আমাকে কিনতে পারবে না: রাজপাল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২১, | ০২:০৬:৪৬ |

চেক বাউন্স ও প্রায় ৯ কোটি রুপির ঋণসংক্রান্ত আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়লেও এই কঠিন পরিস্থিতি তার জীবন বা দীর্ঘ অভিনয়জীবনকে সংজ্ঞায়িত করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জনপ্রিয় বলিউড কৌতুকাভিনেতা রাজপাল যাদব। ভারতীয় চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে তার দীর্ঘ পথচলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জীবনের একটি কঠিন সময় কখনোই একজন শিল্পীর এত বছরের অর্জনকে মুছে ফেলতে পারে না। অর্থ বা সাময়িক সমস্যা নয়, বরং শৈশব থেকে শিল্পের সঙ্গে থাকা আত্মিক বন্ধনই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন এই অভিনেতা।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার ও সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন রাজপাল যাদব। তিনি বলেন, আমি আমার কাজের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ। আমি ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পের একজন শিক্ষার্থী। গ্রাম থেকে শুরু করে এখানে আসার পথপরিক্রমায় বিগত ৩০-৪০ বছরে যদি আমি ১০০ থেকে ২০০ জন মানুষের কাছেও ঋণগ্রস্ত থাকি, তবে সেই অর্থ তাদের ঘরে ঠিকই পৌঁছে যাবে। কারণ, আমি জানি কোথায় কী আছে, এটা কোনো সমস্যা নয়। তবে আমি এটিই বলতে চাই যে, যখন তহবিল সংকটে পড়ে, তখন কীভাবে তারা একজন শিল্পীর পুরো বায়োডাটা নিয়ে বাজি ধরতে পারে?

বিপদের মুখেও দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা পাচ্ছেন উল্লেখ করে রাজপাল যাদব বলেন, সুসময় হোক কিংবা দুর্দিন, রাজপাল যাদব আজও প্রতিটি বিমানবন্দরে নামলে অন্তত ৫০০টি সেলফিতে ফ্রেমবন্দি হন। রাজপাল এই বিশ্বের অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন অভিনেতা। ৫ কোটি, ১০ কোটি, ১০০ কোটি বা ২৫০ কোটি টাকা দিয়েও কেউ আমাকে কিনতে পারবে না; কারণ আমি শৈশব থেকেই শিল্পের নামে নিজেকে সঁপে দিয়েছি। টাকাপয়সা দিয়ে আমাকে কেনার সাধ্য কারও নেই, এ বিষয়ে আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে পারেন। 

তিনি আরও জানান, ২০০০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় সিনেমা ও থিয়েটারে তার পূর্ণাঙ্গ যাত্রাপথ তিনি কাজের মাধ্যমেই মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চান।

আইনি এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১০ সালে, যখন রাজপাল যাদব পরিচালক হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‌‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। বিদ্রূপাত্মক কমেডি ঘরানার চলচ্চিত্রটি ২০১২ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও বক্স অফিসে সাড়া ফেলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ব্যবসায়িক ধসের কারণে ছবিটি খরচের টাকাও তুলতে পারেনি, ফলে গৃহীত ঋণ পরিশোধে চরম আর্থিক জটিলতায় পড়েন তিনি। পরবর্তী সময়ে সুদের হার এবং আনুষঙ্গিক বকেয়া যুক্ত হয়ে মূল ৫ কোটি রুপির দেনা প্রায় ৯ কোটিতে গিয়ে ঠেকে, যা পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং তার বিরুদ্ধে এই চেক বাউন্স মামলা দায়ের হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..