✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২১, | ০১:৫০:৫০ |দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় হয়ে শেষ করা দলটি নতুন মৌসুমে ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপার লড়াইয়ে কতটা এগোতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ২০১৩ সালে বিদায় নেওয়ার পর আর ইংলিশ লিগের শিরোপা জিততে পারেনি ইউনাইটেড। গত মৌসুমে মাইকেল ক্যারিকের অধীনে দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করলেও এবার প্রত্যাশার চাপ আরও বেশি।
প্রিমিয়ার লিগ জিততে পারবে কি ইউনাইটেড?
গত মৌসুমের শেষ দিকে ক্যারিক দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্দান্ত ছন্দে ছিল ইউনাইটেড। তার অধীনে ৩৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে দলটি, যা ওই সময়ে প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি।
ফলে নতুন মৌসুমে শুরুটা ভালো করতে পারলে দীর্ঘদিন পর শিরোপার দৌড়ে ম্যানইউকে দেখা যেতে পারে। তবে ফার্গুসনের পর গত ১৩ মৌসুমের মাত্র পাঁচবার তৃতীয় বা তার ওপরে থেকে লিগ শেষ করেছে তারা। তাই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে বড় পরীক্ষা।
ক্যাসেমিরোর জায়গা নেবেন কে?
মাঝমাঠে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে ক্যাসেমিরো ইন্টার মায়ামিতে চলে যাওয়ায়। গত মৌসুমে ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার ইউনাইটেডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন।
তার বিকল্প হিসেবে চেলসি থেকে ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে আন্দ্রে সান্তোসকে এনেছে ইউনাইটেড। পাশাপাশি অ্যাস্টন ভিলা থেকে এসেছে ইউরি টিলেমানস। রক্ষণাত্মক দায়িত্বে সান্তোস এবং সৃজনশীল ভূমিকায় টিলেমানসকে দেখা যেতে পারে।
তবে একাডেমি থেকে উঠে আসা কোবি মাইনুরও দলে জায়গা পাওয়ার জোরালো দাবিদার।
আক্রমণভাগে কে থাকবেন মূল ভরসা?
উইংয়ে ইউনাইটেডের বিকল্পের অভাব নেই। মাতেউস কুনিয়া, ব্রায়ান এমবেউমো, প্যাট্রিক ডরগু, আমাদ দিয়ালো এবং বার্সেলোনায় ধারে খেলে ফেরা মার্কাস রাশফোর্ড সবাই জায়গার জন্য লড়বেন।
তবে মূল সমস্যা হতে পারে আক্রমণের কেন্দ্রে। জশুয়া জির্কজির পারফরম্যান্স এখনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে গত মৌসুমে বড় অঙ্কের অর্থে দলে আসা বেনজামিন সেস্কো ৩২ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন।
সেস্কোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তাই ক্যারিকের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।
ব্রুনো ফার্নান্দেজ কি থাকছেন?
ম্যানইউ অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। সৌদি প্রো লিগের পর এবার তুরস্কের ক্লাবগুলোও তাকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
৩১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার গত মৌসুমে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটিয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড ২১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর থাকলেও ইউনাইটেড এখন অধিনায়ককে বিক্রি করতে আগ্রহী নয়। গালাতাসারাই, জুভেন্টাস ও এসি মিলানের মতো ক্লাব তাকে পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখালেও আপাতত ব্রুনোকে ধরে রাখার সিদ্ধান্তই ম্যানইউর।
আরও খেলোয়াড় আনবে কি ইউনাইটেড?
গ্রীষ্মের দলবদলে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন খেলোয়াড় এনেছে ইউনাইটেড। তবে শিরোপার দাবিদার হতে হলে আরও শক্তিশালী দল প্রয়োজন বলে মনে করেন ক্যারিক নিজেই।
ব্রাইটনের ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কার্লোস বালেবাকে দীর্ঘদিন ধরেই পছন্দ ইউনাইটেডের। তবে তার সম্ভাব্য মূল্য ১০ কোটি পাউন্ড হওয়ায় চুক্তিটি কঠিন হতে পারে।
আক্রমণভাগে ফ্রেইবুর্গের ইগর মাতানোভিচ, ক্লাব ব্রুগের নিকোলো ট্রেসোলদি ও শাখতার দোনেৎস্কের কাউয়া এলিয়াসের নামও আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া লেফট-ব্যাক পজিশনে লুক শ’র বয়স ও চোটের সমস্যা বিবেচনায় নতুন খেলোয়াড় খুঁজছে ইউনাইটেড। লিপজিগের ডেভিড রাউম ও নিউক্যাসলের লুইস হল সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় আছেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার কারণে ইউরোপের বড় তারকাদের আকৃষ্ট করার সুযোগও রয়েছে ইউনাইটেডের। তবে শিরোপার দাবিদার হতে হলে দলটিকে অন্তত আরও একজন বড় মাপের খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।