✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২১, | ০১:৪৭:২৩ |তীব্র দাবদাহে বেলজিয়ামে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতেই প্রায় তিন হাজার হেক্টর পিটল্যান্ড ও পাইন বন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে সীমান্ত এলাকার অন্তত ৬০০ বাসিন্দা ও পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দিনরাত টানা চেষ্টার পর বৃষ্টি ও ঠান্ডা আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
তবে বেলজিয়ামের এই আগুন শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, পুরো উত্তর গোলার্ধজুড়েই এখন চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানল, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টি ও বন্যা দেখা যাচ্ছে। মূলত বায়ুমণ্ডলে উচ্চচাপ ও নিম্নচাপের এক দীর্ঘস্থায়ী চক্রের কারণেই এমনটা ঘটছে। এর ফলে ইউরোপের সেন, রাইন ও দানিয়ুবের মতো বড় নদীগুলোতে পানির স্তরও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
অনেকেই ইউরোপের এই দাবদাহ ও দাবানলের জন্য ‘এল নিনো’-কে দায়ী করছেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। স্লোভাকিয়ার টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব কোসিসের অধ্যাপক মার্টিনা জেলেনাকোভা জানান, ইউরোপের আবহাওয়ায় এল নিনোর প্রভাব পরোক্ষ এবং বেশ দুর্বল। এটি সরাসরি গ্রীষ্মের তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে না।
বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরোপের এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মূলত দায়ী স্থানীয় কিছু কারণ। এর মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপের কারণে গরম বাতাস আটকে পড়া, মাটির অতিরিক্ত শুষ্কতা এবং মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন। এল নিনো হয়তো তাপমাত্রার পারদ কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করেছে, কিন্তু আসল খলনায়ক হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।